লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! ১ জুন থেকেই মিলবে ৩০০০ টাকা? জেনে নিন আবেদনের নিয়মাবলী

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর রাজ্য সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই নতুন প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে।
কাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে?
প্রশাসন সূত্রে খবর, যারা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের তরফে একটি বিশেষ পোর্টালও চালু করা হচ্ছে।
তালিকায় কারা থাকবেন, আর কারা বাদ?
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে বর্তমান তালিকা যাচাইয়ের কাজে নেমেছে প্রশাসন। মৃত ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আজ, ২৫ মে, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলা শাসকদের এই তালিকা ঝাড়াই-বাছাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি মনিটরিং করছেন অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র এবং রাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ।
কেন বাদ পড়তে পারে নাম?
প্রশাসন মূলত এসআইআর (SIR) তালিকার ওপর ভিত্তি করে যাচাই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বিশেষ করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়কার ৫৮ লক্ষ এএসডিডি (ASDD) ডেটা, ৬ লক্ষ আনম্যাপড তালিকা এবং এসডিডি (SDD) তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাইব্যুনালে আপিল করা বৈধ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানা গেছে। বিডিও এবং বিএলওদের যৌথ উদ্যোগে নতুন আবেদনকারীদের নথি যাচাইয়ের কাজও চলছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের যোগ্যতা ও নথিপত্র:
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক হতে হবে।
মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।
আবেদনের জন্য [আধার কার্ড], ভোটার কার্ড এবং নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক।
উপসংহার: সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরাতেই সরকারের এই উদ্যোগ। আপনি যদি এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক হন, তবে আপনার প্রয়োজনীয় নথিগুলো গুছিয়ে রাখুন এবং সরকারি পোর্টালের আপডেটের দিকে নজর রাখুন।