পুরনিগমে নজিরবিহীন সংঘাত! সচিবকে হেনস্থার অভিযোগে তলব মেয়র পারিষদ বৈশ্বানরকে

কলকাতা পুরনিগমে নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা! সচিবকে হেনস্থার অভিযোগে এবার মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে তলব করল নিউমার্কেট থানার পুলিশ। প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—সচিবের ঘরে গিয়ে কাউন্সিলরদের ওই বিক্ষোভ কি আদৌ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার?
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
গত শুক্রবার পুরনিগমের অধিবেশন বাতিল করেন কমিশনার স্মিতা পান্ডে। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই চেয়ারপার্সন মালা রায়ের উপস্থিতিতে ভিজিটার্স রুমে অধিবেশন শুরু করেন কাউন্সিলররা। অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকায় তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সচিবের ঘরে গিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগ, সেখানেই সচিবের সঙ্গে অত্যন্ত অভব্য আচরণ করা হয় এবং তাঁকে হেনস্থা করা হয়।
পুলিশি তদন্ত ও চাঞ্চল্য
ঘটনার রাতেই পুরসচিব ও কমিশনার নিউমার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে তলব করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনার দিন তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চান। পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা পল (পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী) কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, কোনও সরকারি আধিকারিককে হেনস্থা বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে সুদীপ পোল্লে নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, মন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য কি তবে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির ইঙ্গিত?
কী বলছেন বৈশ্বানর?
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার বাক-স্বাধীনতা আছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অধিবেশন হল খুলে দেওয়ার দাবি জানানো কি অন্যায়? এইটুকু অধিকার যদি না থাকে, তবে গণতন্ত্র কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা স্পষ্ট।”
সম্পাদকের মন্তব্য: কলকাতা পুরনিগমের অন্দরে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের এই চরম তিক্ততা প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশি তলবে কি শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় পড়বেন বৈশ্বানর? সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।