আট বছর ধরে ভারতে লুকিয়ে! সন্দেশখালিতে গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার গ্রামবাসীদের সচেতনতায় ধরা পড়ল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত আট বছর ধরে ভারতে আত্মগোপন করে থাকা এক বাংলাদেশি নাগরিককে পাকড়াও করলেন সন্দেশখালির স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
কীভাবে ধরা পড়ল? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই সন্দেশখালি এলাকায় ওই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল। তার গতিবিধি ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। এরপর স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে একেক সময় একেক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করে। চাপের মুখে শেষপর্যন্ত সে স্বীকার করে যে, সে বাংলাদেশের নাগরিক এবং দীর্ঘ আট বছর ধরে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে আত্মগোপন করে রয়েছে।
পুলিশি পদক্ষেপ: গ্রামবাসীরাই তাকে ধরে ফেলে এবং খবর দেয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, সে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকেছিল এবং এরপর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
সীমান্ত সুরক্ষায় প্রশ্ন: এই ঘটনা ফের একবার সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। আট বছর ধরে একজন বিদেশি নাগরিক কোনো বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই দেশের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও ভয়ের সঞ্চার করেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এলাকায় এই ধরনের বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সে ঠিক কীভাবে সীমান্ত পার হলো এবং গত আট বছর কোথায় কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো বড় অপরাধী চক্র বা পাচারকারী দলের যোগ আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।
সন্দেশখালির মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।