রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ধোঁয়াশা! ভারতকে কড়া বার্তা দিল না আমেরিকা? জানুন মার্কিন বিদেশসচিবের বক্তব্য

রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা ও বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সেই সংক্রান্ত কিছু নিয়মাবলী নিয়ে ভারতের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক বিভ্রান্তি। অবশেষে এই বিষয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন বিদেশসচিব।
ঠিক কী জানালেন মার্কিন বিদেশসচিব? একটি সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন বিদেশসচিব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে আমেরিকার যে নিষেধাজ্ঞা বা নীতি রয়েছে, তা কখনোই ভারতকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং কৌশলগত।
বিভ্রান্তি যেখানে ছিল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া যখন পশ্চিমী দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে, তখন ভারত নিজের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সাশ্রয়ী মূল্যে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা শুরু করে। সেই সময় মার্কিন প্রশাসনের কিছু নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল যে, ভারত কি কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার নিয়ম ভাঙছে? এই নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
কেন এই অবস্থান পরিবর্তন বা স্পষ্টীকরণ? মার্কিন বিদেশসচিবের এই বয়ানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে:
-
কৌশলগত অংশীদারিত্ব: আমেরিকার কাছে ভারত এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক অপরিহার্য কৌশলগত অংশীদার। ফলে ভারতের ওপর কোনো ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাইডেন প্রশাসন।
-
জ্বালানি নিরাপত্তা: ভারতের বিপুল জ্বালানি চাহিদাকে স্বীকৃতি দিয়ে আমেরিকা সম্ভবত বোঝাতে চাইছে যে, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে তারা শ্রদ্ধা করে।
-
ভুল বোঝাবুঝির অবসান: নিষেধাজ্ঞার আইনি দিকটি মূলত রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ করার জন্য তৈরি, ভারতের উন্নয়ন বা জ্বালানি নিরাপত্তাকে বাধা দেওয়ার জন্য নয়—এই বার্তাই মূলত পৌঁছে দিতে চেয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব।
ভবিষ্যৎ সমীকরণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বিদেশসচিবের এই স্পষ্টীকরণ ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় স্বস্তির খবর। এর ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক চাপ আসার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেল।