দুর্গাপুরে তৃণমূলের অন্দরেই বিদ্রোহ? ‘বিজেপি’র নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ!

শিল্পশহর দুর্গাপুরে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন (INTTUC)। এবার অভিযোগ উঠেছে, শাসকদলের নাম ভাঙিয়ে এবং বিজেপি’র নাম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ‘সিন্ডিকেট’ চালানোর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ? স্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও নির্মাণ প্রকল্পে সিন্ডিকেটের দাপট দীর্ঘদিনের। কিন্তু বর্তমানে অভিযোগ উঠছে যে, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের একাংশ নিজেদের আখের গোছাতে কৌশলে বিজেপি’র নাম ব্যবহার করছে। অভিযোগ, কোনো কাজ বা ঠিকাদারি পেতে হলে আগে ‘ম্যানেজ’ করতে হয় এই সিন্ডিকেটকে। আর বাধা দিলে বা টাকা না দিলে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকী এই হুমকির কাজে বিজেপি’র নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে।
শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের একাংশের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের কোন্দল ঢাকতেই এখন একে অপরের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কিছু নেতা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে যেকোনো পক্ষকেই সুবিধামতো ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করছেন না।
-
কী বলছে বিজেপি? বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কুফল ঢাকতে তৃণমূল এখন তাদের নাম ব্যবহার করছে। তাদের সাফ কথা, “তৃণমূলের দুর্নীতি তৃণমূলেরই অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিজেপি’র নাম জড়িয়ে বদনাম করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
-
তৃণমূলের অবস্থান: অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তারা এই ধরনের কোনো কাজের সমর্থন করে না। কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।
দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই অতিষ্ঠ। তার ওপর রাজনৈতিক নাম ভাঙানোর এই নতুন কৌশল শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিষয়টি এখন প্রশাসনের কড়া নজরদারির অপেক্ষায়।