মুর্শিদাবাদ সীমান্তে ঐতিহাসিক কড়াকড়ি! ১২৫ কিমি সিল করতে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের

রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান রুখতে এবার কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুর্শিদাবাদের ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকাকে পুরোপুরি সুরক্ষিত ও ‘সিল’ করার লক্ষ্যে বিএসএফ (BSF)-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শুভেন্দু সরকারের মাস্টারপ্ল্যান কী? ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য সরকার সীমান্ত সুরক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমান সরকারের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী:

  • জমি হস্তান্তর: সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বা ফেন্সিং দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা সম্প্রতি এই জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

  • ৪৫ দিনের ডেডলাইন: সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের জন্য রাজ্য প্রশাসন ৪৫ দিনের একটি সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিয়েছে।

  • অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ: সীমান্ত সিল হয়ে গেলে অনুপ্রবেশকারী এবং চোরাচালানকারীদের দৌরাত্ম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

  • সমন্বয়: কেন্দ্রীয় সংস্থা বিএসএফ-এর সাথে রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়িয়ে এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ? দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বড় একটি অংশ অরক্ষিত থাকায় নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। আগের সরকারের বিরুদ্ধে জমি হস্তান্তরে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না।

প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদই নয়, গোটা রাজ্যজুড়ে যে সমস্ত সীমান্তে কাঁটাতার নেই, সেই এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকার সংবেদনশীল ভূমিকা নিচ্ছে, যাতে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—দুটোই বজায় থাকে।

সীমান্তের বাসিন্দারা সরকারের এই নতুন উদ্যোগে যথেষ্ট আশাবাদী। তাদের মতে, সীমান্ত সিল হলে এলাকায় শান্তি ফিরবে এবং অবৈধ কারবারিদের দাপট বন্ধ হবে।