বিহারের রাজনীতিতে বড় চমক! কমিটি পুনর্গঠন করে ‘উপমন্ত্রী’র মর্যাদা পেলেন ১২ নেতা

বিহারের রাজনীতিতে ফের বড়সড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রদবদল। রাজ্য-স্তরের ‘কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি’ পুনর্গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এই কমিটিতে নীতীশ কুমারের এনডিএ সরকারকে সমর্থনকারী বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রভাবশালী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে কার্যত নতুন সমীকরণ তৈরি করা হয়েছে।
কমিটির নেতৃত্বে কারা?
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী। সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সরস্বতী এবং জেডিইউ-এর রাজ্য সভাপতি উমেশ কুশওয়াহা।
কারা পেলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা?
এই কমিটির দুই সহ-সভাপতিকে ‘প্রতিমন্ত্রী’ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য—লালন কুমার মণ্ডল, চেতন আনন্দ, ভারত বিন্দ, সঙ্গীতা কুমারী, সিদ্ধার্থ সৌরভ, মুরারি প্রসাদ গৌতম, প্রহ্লাদ যাদব, নীলম দেবী, জগন্নাথ ঠাকুর, ভারতী মেহতা, রাজেশ কুমার ভার্মা এবং চন্দন কুমার সিংকে ‘উপ-প্রতিমন্ত্রী’-র মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিধায়ক হিসেবে তাঁরা যা বেতন ও ভাতা পান, তা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কমিটির গঠন বেশ কিছু বড় বার্তা বহন করছে:
চেতন আনন্দের অন্তর্ভুক্তি: নবীনগরের জেডিইউ বিধায়ক চেতন আনন্দকে কমিটিতে নিয়ে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি তাঁর বাবা আনন্দ মোহনের মন্তব্য বিহারের রাজনীতিতে যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল, তাকে প্রশমিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
আস্থা ভোটের পুরস্কার: যাঁরা নীতীশ কুমারের এনডিএ সরকার গঠনের সময় ‘মহাজোট’ থেকে বেরিয়ে এসে আস্থা ভোটে সমর্থন দিয়েছিলেন (যেমন—সঙ্গীতা কুমারী, প্রহ্লাদ যাদব), তাঁদের সবাইকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
প্রভাবশালী নেতাদের জায়গা: এই কমিটিতে প্রভাবশালী নেতা অনন্ত সিংয়ের স্ত্রী নীলম দেবীর অন্তর্ভুক্তিও বিহারের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি প্রাথমিক তালিকা। পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে এই কমিটিতে মনোনীত করা হবে। এনডিএ জোটের অন্দরে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিদ্রোহী ও নীতীশ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের সামাল দিতেই মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ এখন বিহারের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।