কানে ‘শ্বেত ময়ূর’ হয়ে এলেন সানাম সাইদ! ২৩৫৪ ঘণ্টার পরিশ্রমে তৈরি তাঁর রাজকীয় সাজে মুগ্ধ বিশ্ব

কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর আসরে গ্ল্যামার ও সাহসের ভিড়ে এক অনন্য আভিজাত্যের ছাপ রাখলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানাম সাইদ। ‘জিন্দেগি গুলজার হ্যায়’-এর ‘কাশাফ’ এবার কান-এর রেড কার্পেটে আবির্ভূত হলেন এক রাজকীয় রূপ নিয়ে। তাঁর এই অভিজাত ও মার্জিত সাজ দেখে মুগ্ধ ফ্যাশন বোদ্ধা থেকে সাধারণ দর্শক—সবাই।
‘শ্বেত ময়ূর’-এর শিল্পকলা:
সানামের এই পোশাকটি নিছক কোনো রেড কার্পেট আউটফিট ছিল না, এটি ছিল শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। রূপোলি ও অফ-হোয়াইট রঙের মিশেলে তৈরি এই পোশাকে ছিল মুকেশ, জরি, জারদোজি এবং আয়নার সূক্ষ্ম কারুকাজ। জানা গেছে, ৫০ জন দক্ষ কারিগর টানা ২৩৫৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন এই পোশাকটি, যা দেখতে অনেকটা ‘শ্বেত ময়ূর’-এর মতো।
সাজের প্রতিটি বাঁকে আভিজাত্য:
পোশাকটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর পিঠ-খোলা নকশা ও দীর্ঘ ‘ট্রেন’। পোশাকের সূক্ষ্ম ঝিকমিক বুনন রেড কার্পেটের আলোয় মুক্তোর মতো উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। তবে শুধু পোশাকেই নয়, তাঁর কেশসজ্জাও ছিল নজরকাড়া। পরিপাটিভাবে বাঁধা দীর্ঘ পনিটেলের সঙ্গে সাদা ফুলের ‘গজরা’ তাঁর লুকে এনে দিয়েছিল এক নিখুঁত দেশি আমেজ। গয়নার ক্ষেত্রেও সানাম বজায় রেখেছেন নূন্যতম ও মার্জিত শৈলী। কেবল হীরের মাং টিকা, আংটি ও ময়ূর-নকশার কাফ ইয়াররিংয়ের ছোঁয়ায় তাঁর মুখশ্রী হয়ে উঠেছিল লাস্যময়ী।
আত্মবিশ্বাসই সেরা গয়না:
সানামের এই সাজ কেবল একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং শিল্প ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। রেড কার্পেটে তাঁর সাবলীল চালচলন, মৃদু হাসি এবং আত্মবিশ্বাস যেন পোশাকের জৌলুসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফ্যাশন সমালোচকদের মতে, গ্ল্যামারাস পোশাকের বদলে ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য বেছে নিয়ে সানাম বিশ্বমঞ্চে নিজের সংস্কৃতিকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।
মুহূর্তের মধ্যেই সানামের এই রেড কার্পেট লুকের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন দুনিয়াতেও যে তিনি সমান পারদর্শী, তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন সানাম সাইদ।