‘জনবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা বরদাস্ত নয়’, সীমান্ত নীতি নিয়ে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করলেন, খুব শীঘ্রই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর চালু হতে চলেছে ‘স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প’ (Smart Border Project)।
কী এই স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সনাতন পাহারাদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত সুরক্ষাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। এই প্রকল্পে মূলত:
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: ড্রোন, রাডার এবং উন্নত মানের নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
সহজতর নজরদারি: এই প্রযুক্তি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) কাজকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল করবে।
পাচার রোধ: অবৈধ অনুপ্রবেশের পাশাপাশি মাদক পাচার, গরু পাচার এবং জাল নোটের কারবার রোখাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ:
অমিত শাহ এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশ শুধু আটকানোই নয়, ইতিমধ্যেই যারা বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকার কঠোর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক ভারসাম্য বদলে দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা সরকার বরদাস্ত করবে না।” সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে এই জনবিন্যাস পরিবর্তনের অপচেষ্টা রুখতেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রতিরক্ষা নীতির বদল:
২০১৪ সালের পর থেকে ভারতের সীমান্ত নীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন শাহ। তাঁর কথায়, “আগে জঙ্গি হামলার পর আলোচনার পথ খোঁজা হতো, এখন ভারত সরাসরি জবাব দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী।” তিনি উল্লেখ করেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বিমান হামলার মতো পদক্ষেপগুলোই ভারতের সেই অনড় অবস্থানের প্রমাণ।
সীমান্ত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ: সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নয়নের জন্য ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
অধিক্ষেত্র বৃদ্ধি: বিএসএফ-এর কাজের সুবিধার্থে তাদের অধিক্ষেত্র ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে।
জমি বরাদ্দ: পশ্চিমবঙ্গ সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত জটিলতাও মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।
ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্র বা নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় এই স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প এক গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থান এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।