ভারত মহাসাগরে মহাজাগতিক বিস্ফোরণ! নীল জল ছুঁতেই টুকরো টুকরো ইলন মাস্কের স্টারশিপ

স্বপ্ন ছিল চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারীদের পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) তৈরি করেছিল বিশ্বের প্রকাণ্ড রকেট ‘স্টারশিপ’। কিন্তু সেই স্টারশিপের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষে ভারত মহাসাগরে অবতরণের মুহূর্তে ঘটল এক বিধ্বংসী বিস্ফোরণ।

কী ঘটেছিল ভারত মহাসাগরে?
টেক্সাসের স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে সফলভাবেই নিজের জটিল কাজগুলো সম্পন্ন করেছিল স্টারশিপ। নীল জলরাশি ছোঁয়ার সময় প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও, চোখের পলকে পরিস্থিতি বদলে যায়। সমুদ্রের বুকে নামার কিছুক্ষণ পরেই রকেটের পিছনের অংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। রকেটটি একদিকে হেলে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। চারিদিক আগুনের গোলার মতো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং বিশালাকার রকেটটি ছিন্নভিন্ন হয়ে সমুদ্রে হারিয়ে যায়।

স্পেসএক্সের দাবি:
বিস্ফোরণের এই দৃশ্য হিরোশিমা-নাগাসাকির পরমাণু হামলার ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দিলেও, স্পেসএক্স দাবি করেছে, এটি মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়। সংস্থার আধিকারিকদের কথায়, রকেটটির বুস্টার বা আপার স্টেজ—কোনোটিই অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তাদের লক্ষ্য ছিল না। অর্থাৎ, জল ছোঁয়ার পর সেটির ধ্বংস হওয়া পূর্বপরিকল্পিতই ছিল।

উড্ডয়নে যান্ত্রিক ত্রুটি:
মসৃণভাবে সব কিছু এগোলেও, উড্ডয়নের সময় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে এসেছে। একটি ইঞ্জিন শুরুতেই বিকল হয়ে যাওয়ায় রকেটটি নির্ধারিত কক্ষপথের বদলে অন্য কক্ষপথে চলে যায়। বুস্টারটি নিয়ন্ত্রিতভাবে মেক্সিকো উপসাগরে নামানোর পরিকল্পনা থাকলেও, সেটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে আছড়ে পড়ে। যদিও এসব সত্ত্বেও মহাকাশে স্টারশিপের কর্মক্ষমতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী।

চাঁদ জয়ের লড়াই:
নাসার আর্টেমিস অভিযানের অন্যতম প্রধান অংশীদার স্পেসএক্স। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তারা। তবে এই দৌড়ে শুধু স্পেসএক্স নয়, চিন এবং জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’-ও তাল ঠুকছে। যদিও মহাকাশ গবেষণার এই রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতার নিরাপত্তা ও গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, গতির চেয়ে নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত।