উৎসবের নামে আইনের বাইরে কিছু নয়! পশুবলি ও পশু জবাই নিয়ে কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

ঈদ, মহরম কিংবা যেকোনো ধর্মীয় উৎসব—এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত ক্ষেত্রে পশু জবাই বা পশুবলির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে কার্যকর হবে আইন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজ্যের প্রাণী সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য:
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্টভাবে বলেন, “ঈদ হোক বা মহরম, কিংবা যেকোনো পুজো—আইনের কাঠামোর বাইরে কিছুই হবে না। এমন কিছু করা যাবে না যাতে জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত লাগে বা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এতদিন এখানে আইনের শাসন ছিল না, ছিল ক্ষমতাবানদের শাসন। এখন সংবিধান ও আইনের শাসন চলবে।” গরুর হাট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপ কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং লক্ষ্য হলো অবৈধ পশু চোরাচালান বন্ধ করা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
কী বলছে নতুন নির্দেশিকা?
১৯৫০ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যানিম্যাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী গত ১৩ মে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়মে যা যা থাকছে:
বয়সসীমা: ১৪ বছরের কম বয়সী গরু, বলদ, মহিষ বা বাছুর জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অনুমোদন: শুধুমাত্র যেসব পশু বয়সের কারণে বা অসুস্থতার কারণে কাজের বা প্রজননের অনুপযুক্ত, তাদের ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসন ও পশু চিকিৎসকের যৌথ সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে জবাই সম্ভব।
স্থান: সব ধরনের পশু জবাই বা বলি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত স্লটারহাউস বা কসাইখানাতেই হতে হবে। খোলা জায়গা বা রাস্তায় পশুবলি বা জবাই নিষিদ্ধ।
জনজীবনে প্রভাব:
এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর থেকেই বকরি ঈদের আগে গরু হাটগুলিতে এক অদ্ভুত নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইন অমান্যের ভয়ে বিক্রেতারা যেমন সতর্ক, তেমনই ক্রেতাদের অনেকেই গরুর পরিবর্তে ছাগল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে, হিন্দু গরু পালকদের মধ্যে অবিক্রীত পশু নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, আইন হাতে তুলে না নিয়ে সবাই যেন এই নিয়ম মেনে চলেন। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানের ফলে আগামী দিনে রাজ্যের ধর্মীয় উৎসবগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।