“ইরানে বড়সড় কিছু ঘটতে চলেছে”-হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ট্রাম্পের

মার্কিন-ইরান সীমান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ইরান ইস্যুতে নতুন করে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাসের অস্থিরতার পর হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক তৎপরতা এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক: সিবিএস এবং অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ, সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফ এবং চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস। এই বৈঠক থেকেই নতুন করে অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ: সূত্রের খবর, মার্কিন সেনার ‘মেমোরিয়াল ডে’-এর ছুটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে রোস্টার তৈরি করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত কর্মসূচি, এমনকি তাঁর পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের পরিকল্পনা পর্যন্ত স্থগিত করে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর হোয়াইট হাউসে থাকা প্রয়োজন।
কেন এই জল্পনা? ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা ড্যান স্কাভিনোর শেয়ার করা বি২ স্টেলথ বোম্বারের (B2 Stealth Bombers) একটি ভিডিও নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অতীতেও এই ধরনের সামরিক সংকেত ইরান অভিযানের প্রাক্কালে দেখা গিয়েছিল। তবে পাশাপাশি ট্রাম্প শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান একটি সমঝোতায় আসতে আগ্রহী এবং তিনি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।
— Dan Scavino Jr.🇺🇸🦅 (@DanScavino) May 23, 2026
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান: বর্তমানে ভারতসহ সারা বিশ্বের নজর রয়েছে এই পরিস্থিতির ওপর। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই সামরিক চাপ কি শেষ পর্যন্ত কোনো শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেবে।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক বার্তার মধ্যে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক কোন পথে এগোতে চায়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তার চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও মার্কিন প্রশাসনিক সূত্র)