দক্ষিণ দমদম পুরসভার কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যু! উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শনিবার সকালে নিজের বাড়ির ভিতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পুরসভার জনস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল (CIC) ছিলেন।
কীভাবে উদ্ধার হলো দেহ?
শনিবার বেলা পর্যন্ত সঞ্জয় দাসের ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। প্রতিবেশীরা জড়ো হন এবং দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন সঞ্জয় দাসের দেহ ঝুলছে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নাগেরবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক যোগ ও জল্পনা:
নিহত কাউন্সিলর উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতির পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী ও ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তোলাবাজি ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে গত মঙ্গলবার দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার একাধিক নেতাকে তদন্তের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সঞ্জয় দাসকেও তদন্তকারী অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন—এমন জল্পনা গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে ঘোরাফেরা করছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। এই কারণেই কি তিনি চরম পথ বেছে নিলেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পুলিশি তদন্ত:
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অকালপ্রয়াত কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছেছেন অদিতি মুন্সি-সহ দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তবে ঠিক কী কারণে এই অস্বাভাবিক মৃত্যু, তা নিয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।