“খোলসে ঢুকে সোশ্যাল মিডিয়া চালান!’-তৃণমূলের অন্দরেই কি তোপ দাগলেন কুণাল?

বিশ্ব কচ্ছপ দিবস উপলক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বাইরে থেকে দেখলে একে পরিবেশ সচেতনতামূলক পোস্ট বলে মনে হলেও, ভেতরে যে গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে, তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই। নিজের দলের নেতা ও সংগঠনের একাংশকে লক্ষ্য করেই এই বার্তা দিয়েছেন তিনি—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পোস্টে কী লিখেছেন কুণাল? কুণাল ঘোষ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে লিখেছেন, “কচ্ছপ যতদিন বাঁচবে, সিনিয়রদের সম্মান দিয়ে চলুন। তাঁদের দেখে শিখুন। খোলসটা ব্যবহার করুন। ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভেতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরোন।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও যোগ করেছেন, “আগে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিন কোন দিকে হাঁটবেন। বাঘ-সিংহদের বয়স কম। ওরা অতটা জানে না। যা শেখার কচ্ছপদের মতো সিনিয়র, অভিজ্ঞদের থেকে শিখুন।”

কেন এই জল্পনা? ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। দলের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যেকার ‘বেসুরো’ মন্তব্য সেই ফাটলকে আরও স্পষ্ট করেছে। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার সংগঠন থেকে শুরু করে একাধিক বিধায়কের দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে উত্তাল শাসকদল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা থেকে শুরু করে খোদ কুণাল ঘোষ—দলের বড় অংশের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তৃণমূলের অন্দরে ‘নেতা’ হওয়ার বদলে ‘বস’ সংস্কৃতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাকেই কি কুণাল ঘোষ এই ‘কচ্ছপ’ ও ‘বাঘ-সিংহ’-এর রূপক দিয়ে আক্রমণ করলেন? বিশেষ করে, অভিষেকের শান্তিনিকেতন বাসভবনের নোটিশ কাণ্ড এবং পরবর্তীকালে দলের অনেক হেভিওয়েট নেতার দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কুণাল ঘোষ কৌশলে দলের নতুন প্রজন্মের নেতা বা যাঁরা ক্ষমতার দাপটে রয়েছেন, তাঁদেরই কটাক্ষ করেছেন। তাঁর এই পোস্টে ‘অভিজ্ঞতা’ বনাম ‘তারুণ্য’-এর এক বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়েও যেহেতু দলের ভেতরেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, তাই কুণালের এই পোস্টটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দলের দুর্দিন হোক বা সংকটময় মুহূর্ত—কুণাল ঘোষের এই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা যে ফের তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করল, তা বলাই বাহুল্য। তবে বিধায়ক নিজে কোনো নির্দিষ্ট নাম না নেওয়ায় ধোঁয়াশা কাটছে না সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে।

(তথ্যসূত্র: কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট)