“মা দুর্গারও ১০ হাত লাগে, একা জেতা অসম্ভব!” তৃণমূলের ব্যর্থতার দায় কার? মুখ খুললেন পার্থ

ভোটের ভরাডুবি এবং দলের আসন সংখ্যা একশোর নিচে নেমে আসার পরই তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি। এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আইপ্যাকের (I-PAC) কার্যপদ্ধতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের এককালের প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, দল এখন সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত।
“সহ-রাঁধুনি” ও আইপ্যাক নিয়ে খোঁচা:
পার্থ চট্টোপাধ্যায় দল পরিচালনার ত্রুটি নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, “দিদিই তো মূল রাঁধুনি। কিন্তু তাঁর ছায়ায় থেকে যে সহ-রাঁধুনিরা কাজ করার চেষ্টা করেছে, তারা একেবারেই অন্য রেসিপি ব্যবহার করেছে। তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে দল পরিচালনা করতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে দলের জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি করেছে।” নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাককে নিশানা করে তিনি বলেন, “আইপ্যাক আমাদের মাথা খেয়ে গেল! তারা এখন কোথায়? যে সংস্থা অভিষেককে পরামর্শ দিত, তাদের কর্ণধার এখন অভিষেককে নিয়ে কী কী বলছেন, তা সকলেই দেখছেন।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবাণী:
তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে পার্থবাবুর বিশ্লেষণ অত্যন্ত কড়া। তিনি অকপটে বলেন, “বিজেপি ভুল করলে তবেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ আছে। ওরা যদি ভুল না করে, তবে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।” পার্থবাবুর মতে, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ফেরাতে গেলে সময় থাকতেই দেওয়ালের লিখন পড়তে হবে এবং ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে।
“অহংকার নয়, লড়াই দরকার”:
দলের কৌশল নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা অযথা অন্যকে কালি লাগিয়ে নিজেরা সাদা থাকার চেষ্টা করেছি, যা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের প্রশংসা করলেও, একচ্ছত্র আধিপত্যের সমালোচনা করে পার্থবাবু বলেন, “মা দুর্গা যদি একা যুদ্ধ করতে পারতেন, তবে তাঁর ১০ হাতের প্রয়োজন হতো না। একা লড়াইয়ে জেতা সম্ভব নয়। আমাদের সেই পুরনো দিনে ফিরতে হবে যখন দলটা কর্মী-বান্ধব ছিল।”
সংশোধনের পথ:
নিজের প্রতি দলের মনোভাব এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কষ্টের সুর থাকলেও, পার্থ চট্টোপাধ্যায় দলকে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখনও সময় আছে নিজেদের ভুলগুলো মেনে নেওয়ার। দিদি যেমন মার খেয়েও কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন, সেই আদর্শে ফিরলে তবেই দল ফের মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলে বন্দি থেকেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই একের পর এক মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে যে বড় ধরণের ভাঙন বা মতপার্থক্য তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।