ভারতকে এড়িয়ে বড় সিদ্ধান্ত! আমলাদের প্রশিক্ষণে সরাসরি পাকিস্তানমুখী বাংলাদেশ

দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের সমীকরণে কি নতুন কোনো মোড় আসতে চলেছে? সম্প্রতি বাংলাদেশের আমলাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি নতুন গন্তব্য ঠিক করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রথা ভেঙে এবার ভারতের পরিবর্তে প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

কী জানা যাচ্ছে? সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতসহ বিভিন্ন বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এবার চিরাচরিত সেই ধারা থেকে সরে এসে পাকিস্তান প্রশাসনিক একাডেমি (Pakistan Administrative Academy)-তে উচ্চপদস্থ আমলাদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক শীতল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন বার্তা হতে পারে।

কেন এই বিতর্ক? এতদিন এই ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ মূলত ভারত, সিঙ্গাপুর বা পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নির্ভর করত। ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ পাকিস্তানের মতো দেশকে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়াকে অনেকেই ভারতের প্রতি এক ধরণের ‘কূটনৈতিক বার্তা’ বা ‘অস্বস্তি’ হিসেবে দেখছেন। যদিও বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে সম্পূর্ণভাবে একটি ‘প্রশাসনিক বিনিময় কর্মসূচি’ বলে দাবি করা হয়েছে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া: পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ট্রাস্ট-বিল্ডিং বা বিশ্বাসযোগ্যতার সম্পর্ক ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে এই সাম্প্রতিক এই ঘনিষ্ঠতা তাতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মত: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক জানান, “আমলাদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট একটি দেশকে বেছে নেওয়া কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন ঘটায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেই পাকিস্তানের সঙ্গে এই সখ্যতা কৌশলগত কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ কি না, তা দেখার বিষয়।”