ঝাড়খণ্ডের স্কুলগুলোতে এআই (AI) চমক! এক বছরেই ফেলের হার কমল ৭০%, শীর্ষে লাতেহার ও গুমলা।

ঝাড়খণ্ডের সরকারি স্কুলগুলোতে এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া। ‘সম্পূর্ণ শিক্ষা কবচ’ (SSK) প্রোগ্রাম এবং ‘ফিলো’ (Philo) এআই প্ল্যাটফর্মের মেলবন্ধনে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে পড়ুয়াদের ফেল করার হার ৭০ শতাংশ কমেছে, যা ঝাড়খণ্ডের শিক্ষা মহলে বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সাফল্যের নেপথ্যে প্রযুক্তি রাজ্য সরকার এবং দিল্লি-ভিত্তিক এআই এডুটেক স্টার্টআপ ‘ফিলো’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই মডেলটি সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের ২৪×৭ লাইভ ওয়ান-টু-ওয়ান টিউটর সাপোর্ট দিচ্ছে, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এনসিইআরটি (NCERT)-র সহযোগিতায় এই প্ল্যাটফর্মটি পড়ুয়াদের কঠিন বিষয়গুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করছে।
লাতেহার ও গুমলার রেকর্ড সাফল্য ঝাড়খণ্ড একাডেমিক কাউন্সিলের (JAC) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একসময়ের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো এখন সাফল্যের শীর্ষে:
-
লাতেহার: ২০২৩ সালে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানের র্যাঙ্কিংয়ে ১৩ নম্বরে থাকা লাতেহার, টানা দুবছর (২০২৫ ও ২০২৬) ধরে রাজ্যের প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। তাদের বর্তমান পাশের হার ৯৩.২৫%।
-
গুমলা: নীতি আয়োগের ‘অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট’ তালিকার গুমলা জেলা ২০২৫ সালে ২০তম স্থানে থাকলেও, ২০২৬ সালে ৮৭% থেকে বেড়ে ৯৯.৩% পাশের হার নিয়ে রাজ্যের সেরা জেলা হয়ে উঠেছে।
-
অন্যান্য জেলা: দুমকা (দশম শ্রেণি) ২৪তম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। পশ্চিম সিংভূম জেলাও বিজ্ঞানের র্যাঙ্কিংয়ে ১৮ থেকে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এই মডেলের সাফল্য কেবল রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, মেঘালয় ও রাজস্থানের মতো ছয়টি রাজ্যে এই মডেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমেরিকার ‘জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি’ (Johns Hopkins University)-র সমীক্ষায় এই উদ্যোগটিকে স্বল্প আয়ের পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারত সরকারের ‘ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর ই-গভর্ন্যান্স’ এবং নীতি আয়োগের ‘নীতি ফর স্টেটস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ এই প্রকল্পটিকে দেশের সেরা শিক্ষা উদ্যোগ হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে।