আরজি করের নতুন ‘SIT’ কাঁপাবে বলয়! ডেডবডি উদ্ধার থেকে শ্মশান— পুরো টাইমলাইন পুনর্নির্মাণ করছে সিবিআই

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Case) সেই নৃশংস ও অভিশপ্ত ঘটনার তদন্তে এবার নজিরবিহীন মোড়! তদন্তের গতি বাড়াতে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে একবারে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে সিবিআই (CBI)। আরজি কর কাণ্ডের পরত পরত রহস্যের জট খুলতে এবং সমস্ত ধোঁয়াশা দূর করতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম’ বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই নতুন দলটির মূল লক্ষ্য হলো— ঘটনার দিন রাত থেকে শুরু করে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত, প্রতিটি মুহূর্তের টাইমলাইন (Timeline) নতুন করে স্ক্র্যানার বা আতশ কাচের তলায় ফেলা।
কেন এই নতুন ‘সিট’? কোন কোন তথ্যে নজর গোয়েন্দাদের?
তদন্তকারী সূত্রের খবর, আরজি কর কাণ্ডে শুরু থেকেই কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে ‘তথ্যপ্রমাণ লোপাট’ এবং ‘তড়িঘড়ি শেষকৃত্য’ করার যে অভিযোগ উঠেছিল, এবার সেই বিষয়ের প্রতিটি সুতো ধরে টানতে চাইছে সিবিআই-এর নতুন এই স্পেশাল টিম।
নতুন ‘সিট’-এর তদন্তের মূল ফোকাস থাকছে যে বিষয়গুলোতে:
-
ঘটনার রাত ও সকালের কল লিস্ট: ঘটনার দিন রাতে সেমিনার রুমের আশেপাশে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কাদের মধ্যে ফোনে কথোপকথন হয়েছিল।
-
ময়নাতদন্ত ও ডেডবডি হস্তান্তর: কার নির্দেশে এবং কতটা তাড়াহুড়ো করে নির্যাতিতার দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
-
শ্মশানের নথি ও সিসিটিভি: পানিহাটি শ্মশানে শেষকৃত্যের সময়কার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশি উপস্থিতির নথি নতুন করে খতিয়ে দেখা।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি: ঘটনার পর থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে এমন কিছু ফাঁকফোকর এবং অসঙ্গতি রয়েছে, যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নতুন ‘সিট’ সেই সব ‘লুকানো সত্য’ বা হিডেন ফাইলস সামনে আনতেই বিশেষ প্রযুক্তি ও দক্ষ অফিসারদের নিয়োগ করেছে।
পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ ও সায়েন্টিফিক এভিডেন্স-এ জোর
সিবিআই-এর এই বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মামলার পুরনো কেস ডায়েরি ও চার্জশিট খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, আরজি করের তৎকালীন প্রশাসনিক পদাধিকারী, ঘটনার রাতে ডিউটিতে থাকা জুনিয়র ডাক্তার, নার্স এবং সুরক্ষাকর্মীদের আবারও নতুন করে তলব করা হতে পারে। কোনো ধরনের পারিপার্শ্বিক বা রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই ডিজিটাল এভিডেন্স (কল রেকর্ডস, টাওয়ার লোকেশন ও সিসিটিভি) এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ‘সিট’ সুপ্রিম কোর্টে তাদের পরবর্তী স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেবে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই নতুন সাঁড়াশি তৎপরতায় আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় কোনো মাথার মুখোশ খোলে কি না, এখন সেটাই দেখার।