“১০ বছরের কাজ ১৫দিনেই”-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দিতে জমি পেল BSF

সময়টা ছিল ২০১৬ সাল। বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি চেয়ে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। কিন্তু রাজনৈতিক টালবাহানায় কেটে গেছে দীর্ঘ ১০ বছর, বিএসএফ (BSF) সেই প্রয়োজনীয় জমি হাতে পায়নি। অবশেষে ২০২৬-এ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কাটল সেই দীর্ঘদিনের জট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে মাত্র কয়েকদিনেই শুরু হয়ে গেল সীমান্ত সুরক্ষার সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। প্রথম দফায় ৪৩ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করল নতুন রাজ্য সরকার।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তৃত ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অংশেই রয়েছে ২,২১৬ কিলোমিটার। এই বিশাল সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান:
“আমাদের রাজ্যের ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও অরক্ষিত। এর মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে, যেখানে পূর্বতন রাজ্য সরকার চাইলেই বিএসএফ-কে জমি দিতে পারত। কিন্তু শুধুমাত্র তোষণ আর ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে বিগত সরকার সেই জমি দেয়নি।”
দেশবিরোধী কাজ ও অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা
সীমান্তে জমি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্রেফ কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজ্য ও দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়:
-
রাজ্য তথা দেশের নানা প্রান্তে যে ধরণের দেশবিরোধী কাজ এবং আইনশৃঙ্খলা জনিত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তার পেছনে সীমান্ত সুরক্ষার অভাব ছিল।
-
বলপূর্বক ধর্মপরিবর্তন, ল্যান্ড জিহাদ এবং লাভ জিহাদের মতো অপরাধের গ্রাফ উঠছিল।
-
এই সমস্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।
কেন্দ্রের টাকায় জমি অধিগ্রহণ, শুরু ২৭ কিলোমিটারের কাজ
অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শেষ করতে চায় নতুন সরকার। জমি হস্তান্তরের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি আমরা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিলাম। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত অর্থ আমাদের দিচ্ছে ভারত সরকার।”
‘আমূল পরিবর্তন দেখলাম’, উচ্ছ্বসিত বিএসএফ কর্তৃপক্ষ
রাজ্য সরকারের এই নজিরবিহীন তৎপরতায় উছ্বসিত সীমান্তরক্ষা বাহিনী। বিএসএফ-এর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানান, “আমরা অনেক দিন ধরেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি চেয়ে আসছিলাম। এবার আমরা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন দেখলাম। বর্তমান রাজ্য সরকারের থেকে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। এর ফলে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এটা অত্যন্ত জরুরি ছিল।”