“তেলের খরচ কমাতে ট্রাম আর সাইকেলই ভরসা!” দূষণমুক্ত শহরের জন্য কেন্দ্রকে বড় প্রস্তাব পরিবেশবিদদের!

বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং আকাশছোঁয়া জ্বালানির খরচে যখন সাধারণ মানুষের পকেট পুড়ছে, তখন পরিবেশ রক্ষায় এক অভিনব দাবিপত্র সামনে এল। সম্প্রতি দেশের জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে এক দূরদর্শী বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার প্রধানমন্ত্রীর সেই ‘জ্বালানি সাশ্রয়’-এর দাবিকেই মূল হাতিয়ার করে শহরের বুকে সাইকেল লেন তৈরি এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব ট্রাম রুট পুনরায় চালুর দাবিতে সরব হলেন দেশের শীর্ষ পরিবেশ কর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে হাতিয়ার করে মাস্টারস্ট্রোক!

পরিবেশ কর্মীদের মতে, খনিজ তেলের ওপর বিদেশের নির্ভরতা কমাতে এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে প্রধানমন্ত্রী যে আবেদন জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের সবচেয়ে সহজ ও সস্তা উপায় লুকিয়ে রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যদি যত্রতত্র সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ না করে, উল্টে একটি নির্দিষ্ট ‘সাইকেল লেন’ (Dedicated Bicycle Lane) তৈরি করা যায়, তবে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার জ্বালানি বাঁচানো সম্ভব।

পরিবেশ বাঁচাও কমিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন: “প্রধানমন্ত্রী মোদীজি নিজেই পরিবেশ ও জ্বালানি বাঁচানোর কথা বলছেন। আমরা তাঁর সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করতে চাইছি। মেট্রো সিটিগুলিতে যদি সাইকেল ও ট্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে দূষণ এবং তেলের খরচ— দুই-ই অর্ধেক হয়ে যাবে।”

ট্রাম রুট ফেরানোর জোরালো দাবি

যে সমস্ত শহরে (যেমন কলকাতা) ট্রাম পরিষেবা আইনি বা পরিকাঠামোগত কারণে বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে আবারও নতুন করে ট্রাম রুট চালুর দাবি তুলেছেন পরিবেশবিদরা। ট্রাম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায়, এটি যানজট ও ধোঁয়া দূষণমুক্ত নগর গড়তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ইউরোপের একাধিক উন্নত দেশে যেখানে ট্রামকে নতুন করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, সেখানে ভারতে কেন ট্রাম অবহেলিত থাকবে— সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

কী কী দাবি জানাচ্ছেন পরিবেশ কর্মীরা?

  • ১. পৃথক সাইকেল লেন: প্রতিটি বড় রাস্তার একপাশে কেবল সাইকেল আরোহীদের জন্য সুরক্ষিত ও নির্দিষ্ট লেন তৈরি করতে হবে।

  • ২. ট্রামের আধুনিকীকরণ: পুরনো ট্রাম রুটগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে আধুনিক, দ্রুতগতির লাইট রেল বা ট্রাম চালানো হোক।

  • ৩. গ্রিন করিডোর: অফিস ও স্কুল টাইমে সাইকেল ও গণপরিবহনকে বাড়তি সুবিধা দিতে ট্রাফিক সিগন্যালে বিশেষ ছাড় দেওয়া।

জ্বালানি বাঁচানোর এই ‘গ্রিন ফর্মুলা’ নিয়ে পরিবেশ কর্মীরা খুব শীঘ্রই নগরোন্নয়ন মন্ত্রক এবং স্থানীয় পুরসভাগুলিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্দেশ্যকে সফল করতে প্রশাসন শহরের রাস্তায় সাইকেল আর ট্রামকে কতটা জায়গা করে দেয়।

Editor001
  • Editor001