মোদী সরকারের মেগা প্ল্যান! ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের এক নোটিশে বদলে যাচ্ছে দেশের পেট্রল পাম্পের চেনা ছবি!

দেশের সব পেট্রল পাম্পে এখন যে ফুয়েল পাওয়া যায়, তাতে ইতিমধ্যেই ইথানল মেশানো থাকে। তবে এবার পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ রুখতে আরও এক কদম এগিয়ে গেল কেন্দ্র। পেট্রলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ আরও বাড়াতে সবুজ সংকেত দিল ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)। ব্যুরো-র পক্ষ থেকে ‘ই-৩০’ (E-30) অর্থাৎ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে অফিশিয়াল নোটিশ জারি করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় পদক্ষেপ।

কী এই ‘E-30’ পেট্রল?

সহজ কথায়, ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে পেট্রল পাম্পগুলিতে যে জ্বালানি মিলবে, তার প্রতি লিটারে ৭০ শতাংশ থাকবে সাধারণ পেট্রল এবং বাকি ৩০ শতাংশ থাকবে ইথানল। এত দিন দেশে মূলত ১০ থেকে ২০ শতাংশ (E-10 এবং E-20) ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহার করা হচ্ছিল। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রাকে একধাক্কায় ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার আইনি ও প্রযুক্তিগত রাস্তা পরিষ্কার করল BIS।

অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, “ইথানল মূলত আখ ও শস্যদানা থেকে তৈরি একটি পরিবেশবান্ধব জৈব জ্বালানি (Bio-Fuel)। পেট্রলে এর মিশ্রণ বাড়লে গাড়ি থেকে বিষাক্ত কার্বন নির্গমন একধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে।”

আমজনতার পকেটে এবং গাড়িতে কী প্রভাব পড়বে?

BIS-এর এই ঐতিহাসিক নোটিশের পর গাড়ি চালকদের মনে মূলত দুটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে:

  • ১. পেট্রলের দাম কি কমবে? যেহেতু ইথানল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয় এবং এর উৎপাদন খরচ সাধারণ পেট্রলের চেয়ে কম, তাই জ্বালানিতে ৩০% ইথানল মিশলে আগামী দিনে তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে।

  • ২. আপনার গাড়ির ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি হবে কি? বর্তমানে বাজারে থাকা বেশিরভাগ নতুন গাড়িই E-20 ফুয়েল সামঞ্জস্যপূর্ণ (Flex-Fuel)। তবে E-30 পেট্রল পুরোদমে চালু হলে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে (যেমন Maruti, Hyundai, Tata) তাদের ইঞ্জিনের প্রযুক্তিতে সামান্য বদল আনতে হবে। তবে পুরনো গাড়িগুলির ক্ষেত্রে এই জ্বালানি ব্যবহারের আগে কিছু মেকানিক্যাল টিউনিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

স্বনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে বড় লাফ

কেন্দ্রীয় সরকারের মূল লক্ষ্য হলো খনিজ তেলের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো। পেট্রলে ৩০% ইথানল মেশানো সম্ভব হলে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। BIS-এর এই সবুজ সংকেতের পর দেশের তেল সংস্থাগুলি (IOCL, HPCL, BPCL) এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাম্পগুলিতে E-30 জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরিতে নেমে পড়েছে।

Editor001
  • Editor001