“খুন অন্য ঘরে, সিবিআই তদন্তে ৩৮টি গলদ!”-আরজি কর কাণ্ডে হাইকোর্টে বিস্ফোরক নিহতের পরিবার

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় মোড় কলকাতা হাইকোর্টে। কেন এই মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে— নিহত চিকিৎসকের পরিবারের কাছে তার সন্তোষজনক ও আইনি ব্যাখ্যা চাইল উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মোট পাঁচটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হয়।

“খুন অন্য ঘরে, তদন্তে ৩৮টি ত্রুটি!”— বিস্ফোরক দাবি আইনজীবীদের

শুনানি চলাকালীন আদালতের কাছে আরজি করের ঘটনাস্থল পুনরায় ঘুরে দেখার আবেদন জানান পরিবারের আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার মূল অকুস্থল বা ক্রাইম সিন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সিবিআই সেমিনার হলকে অকুস্থল হিসেবে চিহ্নিত করলেও, পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহ রায় দাবি করেন, “ওই হলের পাশে আরও একটি ঘর আছে, যেখানে আসল খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”

এখানেই শেষ নয়, পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়:

  • হাসপাতালের সাততলার ওটি (OT) রুম, যা তৎকালীন বিতর্কিত অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন, সেখানেও ঘটনার সূত্র বা যোগ থাকতে পারে।

  • সিবিআই-এর চার্জশিট ও তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে অন্তত ৩৮টি গুরুতর ত্রুটি ও গলদ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুরুত্ব দিলে বিচারের ফল অন্য রকম হতে পারত।

যদিও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত নতুন করে কাউকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং আরজি করের সেই সেমিনার হলে কেউ ঢুকতে পারবে না।

“দায়রা আদালত ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে যে, একজন ব্যক্তিই (সঞ্জয় রায়) খুন–সহ গোটা ঘটনা ঘটিয়েছে। দায়রা আদালতের ওই রায় মান্যতা পাওয়ার পর, নতুন করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আইনি সুযোগ কোথায়?” — রাজদীপ মজুমদার ও অমাজিৎ দে, সিবিআই-এর কৌঁসুলি

এজলাসে ভার্চুয়ালি সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজা

শুনানি চলাকালীন আদালত সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসারের খোঁজ করলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অফিসার সীমা পাহুজা। তিনি আদালতকে জানান, যেহেতু নিহতের দেহ সেমিনার হল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তাই নিয়ম মেনে ওই ঘরটিকেই মূল অকুস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে সিল করে রাখা হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, দায়রা আদালতের রায় নিয়ে তারা এখনই কোনও মন্তব্য করছে না, সম্পূর্ণ আইনি সওয়াল–জবাবের পরেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে সমস্ত আইনজীবীকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে কোর্ট জানায়, এই সংবেদনশীল মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও বক্তব্য রাখা যাবে না। আগামী ২১ মে দুপুর দুটোয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারে পানিহাটির সঞ্জীব

এদিকে, আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের নিশানায় আসা পানিহাটির সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবার পাল্টা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ, সঞ্জীবকে সম্পূর্ণ মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এমনকি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁর বাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর ঘনিষ্ঠ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানের গ্রেফতারি চেয়ে সম্প্রতি শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছে নিহতের পরিবার। সেই গ্রেফতারি এড়াতেই এবার আইনি রক্ষাকবচের খোঁজে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন সঞ্জীব। সব মিলিয়ে, আরজি কর মামলাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এখন এক নতুন জটিল মোড় নিল।