“কোনো বুথে ১২, কোথাও আবার ২৯ ভোট!”-ভবানীপুরে কোন কোন বুথে হারলেন মমতা?

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। এই আসনে বিজেপি শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করতেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি ভবানীপুর থেকে জিতব, এক ভোটে হলেও জিতব।” কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল, নিজের চেনা দুর্গেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশন (ECI) থেকে প্রাপ্ত বুথভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করতেই এবার সামনে এল আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২৬৭টি বুথের ২০৭টিতেই জয়ী শুভেন্দু!

কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৬৭টি বুথের মধ্যে ২০৭টি বুথেই লিড পেয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকতে পেরেছেন মাত্র ৬০টি বুথে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ভবানীপুরের এমন একাধিক বুথ রয়েছে যেখানে তৃণমূল নেত্রী ১০০ তো দূর, ৫০টি ভোটও পার করতে পারেননি। যেমন—

  • ২২৭ নম্বর বুথ: এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন মাত্র ১২টি ভোট!

  • ১৭৬ নম্বর বুথ: তৃণমূল নেত্রীর ঝুলিতে গেছে মাত্র ২৯টি ভোট।

  • ২৬৩ নম্বর বুথ: এখানে মিলেছে মাত্র ৩০টি ভোট।

  • ১০৫ নম্বর বুথ: এই বুথে ভোট পড়েছে মাত্র ৩১টি।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরের প্রতিটি বুথে গড় ভোটার সংখ্যা ৪০০ থেকে ৭০০-র মধ্যে। এর মধ্যে মোট ২৮টি বুথে ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন মমতা। উল্টোদিকে, শুভেন্দু অধিকারী ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে।

২০২১ বনাম ২০২৬: এক নজরে ভবানীপুরের ভোটের অংক

প্রার্থী ও দল প্রাপ্ত মোট ভোট ভোটের শতাংশ (%)
শুভেন্দু অধিকারী (BJP) ৭৩,৯১৭ ৫৩.০২%
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC) ৫৮,৮১২ ৪২.১৯%

প্রসঙ্গগত, ২০২১ সালের উপনির্বাচনে এই ভবানীপুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮৫ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে প্রায় ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে রেকর্ড জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। সেবার ভবানীপুরের ৭টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই লিড ছিল ঘাসফুল শিবিরের। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই একই আসনে সম্পূর্ণ উল্টে গেল রাজনৈতিক পাশা।

“রাজনৈতিক অহঙ্কার চূর্ণ হয়েছে”— হুঙ্কার শুভেন্দুর

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নিজেকে সবসময় ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ বলে প্রচার করে এসেছেন তিনি। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হারার পর এই আসনটিই মমতার মুখ্যমন্ত্রীত্ব বাঁচিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬-এ সেই চেনা মাটিই সরে গেল তাঁর পায়ের তলা থেকে।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর ভবানীপুরের ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অহঙ্কার চূর্ণ করে ভবানীপুরের আপামর মানুষ আমাকে জয়ী করেছেন। আমি সারাজীবন আপনাদের ভাইয়ের মতো পাশে থাকব।” দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রের বিরাট জয়কে তিনি সম্পূর্ণভাবে সেখানকার সাধারণ বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যেই উৎসর্গ করেছেন।