পোস্ট অফিসে টাকা জমালে পাবেন দ্বিগুণ, এক নজরে দেখেনিন ৩ স্কিম

বর্তমান সময়ে ব্যাঙ্কে সুদের হার কমায় কপালে চিন্তার ভাঁজ মধ্যবিত্তের। অন্যদিকে, শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে মোটা আয়ের সুযোগ থাকলেও সেখানে জড়িয়ে রয়েছে বড় আর্থিক ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে ভারতীয় ডাকঘর বা পোস্ট অফিস (Post Office)। এখানে টাকা রাখা যেমন ১০০ শতাংশ নিরাপদ, তেমনই সুদের হারও বেশ আকর্ষণীয়।

অনেকেই জানেন না যে, ব্যাঙ্কের মতো পোস্ট অফিসেও ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি (FD) করার চমৎকার সুবিধা রয়েছে। মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলেই পোস্ট অফিসের দুর্দান্ত সব স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব।

১. পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট (TD): ব্যাঙ্কের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ!

পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিটকেই বলা হয় ‘টাইম ডিপোজিট’। এই স্কিমে ১ থেকে ৫ বছরের জন্য টাকা জমা রাখা যায়। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব এবং বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই।

এখানে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য সুদের হার নিচে দেওয়া হলো:

  • ১ বছরের জন্য: ৬.৯% সুদ

  • ২ বছরের জন্য: ৭.০% সুদ

  • ৩ বছরের জন্য: ৭.১% সুদ

  • ৫ বছরের জন্য: ৭.৫% সুদ

টাকা দ্বিগুণ করার ম্যাজিক ফর্মুলা: > আপনি যদি এই স্কিমে ৫ লক্ষ টাকা ৫ বছরের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করেন, তবে ৭.৫% সুদে আপনি শুধু সুদ বাবদ পাবেন ২,২৪,৯৭৪ টাকা। অর্থাৎ মেয়াদ শেষে মোট পাবেন ৭,২৪,৯৭৪ টাকা।

এবার যদি এই টাকা না তুলে আরও ৫ বছরের জন্য স্কিমটি বাড়িয়ে নেন, তবে ১০ বছর পর মোট সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫,৫১,১৭৫ টাকা। অর্থাৎ ১০ বছর পর আপনার ৫ লক্ষ টাকা বেড়ে গিয়ে মোট ১০,৫১,১৭৫ টাকা বা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে!

২. কিষাণ বিকাশ পত্র (KVP): ১১৫ মাসেই টাকা ডবল!

পোস্ট অফিসের অন্যতম জনপ্রিয় স্কিম হলো কিষাণ বিকাশ পত্র (KVP)। আপনি যদি নিজের টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদে ডবল বা দ্বিগুণ করতে চান, তবে এটি সেরা বিকল্প। বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক সুদের হার রাখা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে মাত্র ১১৫ মাসে (অর্থাৎ ৯ বছর ৭ মাসে) আপনার জমা টাকা সম্পূর্ণ ম্যাচিউরড হয়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

৩. ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC): সুদ প্লাস ট্যাক্স ছাড়

মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীদের জন্য পোস্ট অফিসের আরেকটি দুর্দান্ত স্কিম হলো ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি (NSC)।

  • বর্তমানে এই ৫-বছর মেয়াদি স্কিমে ৬.৭ শতাংশ হারে রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে।

  • এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের 80C ধারার অধীনে কর বা ট্যাক্স ছাড়ের (Tax Rebate) সুবিধা পাওয়া যায়।

  • তবে মনে রাখবেন, এতে ৫ বছরের একটি ‘লক-ইন পিরিয়ড’ থাকে। অর্থাৎ ৫ বছরের আগে এই স্কিম থেকে টাকা তোলা যায় না।

নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং নিশ্চিত উপার্জনের জন্য আজই আপনার নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করে এই সুযোগগুলির সুবিধা নিতে পারেন।