আজই কি মিটবে ডিএ-র দীর্ঘ বঞ্চনা? শুভেন্দুর দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকে সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় ধামাকার কাউন্টডাউন!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আজ সোমবার নবান্নে নবগঠিত মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় মেগা বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১১ মে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আজকের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে পারদ চড়তে শুরু করেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ১১টা ৫১ মিনিটে শুরু হওয়া এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের মূল আলোচ্য সূচীর শীর্ষে রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) এবং সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) সংক্রান্ত বিষয়।
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে নবান্নের দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বৈঠকেই সরকারি চাকরির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই দিনই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পরবর্তী সোমবারে কর্মচারীদের ডিএ এবং নতুন বেতন কমিশনের প্রসঙ্গটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই, আজকের এই বৈঠক থেকে শুভেন্দু অধিকারী কোনো বড়সড় বা ইতিবাচক আপডেট দেন কি না, সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী।
কেন্দ্রীয় হারের ডিএ ও সপ্তম পে কমিশনের জট
রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া ডিএ-র পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমহারে মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালুর দাবিও দীর্ঘদিনের। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা এবং বকেয়া মেটানোর ডেডলাইন নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জট খোলার বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে এবং আইনি জটিলতা কাটাতে আজই কোনো বড়সড় আর্থিক প্যাকেজ বা কিস্তির ঘোষণা করতে পারে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা।
নজরে আরজি কর তদন্তের বড় সিদ্ধান্ত
নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধু ডিএ বা বেতন কমিশনই নয়, আজকের এই দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার চলমান তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলির রূপায়ণের গতিপ্রকৃতি নিয়েও আজ মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, সপ্তাহের প্রথম দিনেই নবান্নের এই দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।