পশু জবাইয়ের নয়া ফতোয়ায় তোলপাড় বাংলা! শুভেন্দুকে জরুরি চিঠি অধীরের

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পরিচালিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বড়সড় রদবদল ও নতুন নিয়মকানুন জারি করা হচ্ছে। এই আবহেই সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ‘পশু জবাই’ সংক্রান্ত একটি কড়া গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। আর সরকারের এই নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হলো। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠালেন রাজ্য কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, সরকারের এই নতুন গাইডলাইন বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ একটি বৈচিত্র্যময় রাজ্য। এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসসম্পন্ন বহু গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। যুগের পর যুগ ধরে তাঁরা নিজস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করে আসছেন। কংগ্রেস নেতার দাবি, রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক নির্দেশিকা মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষত, যাঁরা নির্দিষ্ট প্রথা ও দীর্ঘদিনের রীতিনীতি মেনে চলেন, তাঁদের কাছে এই নতুন সরকারি নিয়মটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বিভ্রান্তি সামাল দিতে চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিশেষ প্রস্তাবও দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, এই সংকটের সমাধানে জেলা প্রশাসনের উচিত মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু স্থান আগে থেকে চিহ্নিত ও নির্ধারণ করে দেওয়া। ওই নির্দিষ্ট স্থানগুলো শুধুমাত্র বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্যই ব্যবহার করা হবে। এর ফলে মানুষ কোনো রকম আইনি জটিলতার ভয় ছাড়া, সেখানে গিয়ে নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথা অনুযায়ী পশু জবাইয়ের মতো প্রাচীন রীতিনীতিগুলো নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন।
কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতার মতে, প্রশাসন যদি এমন কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তির কারণে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া সমস্ত বিভ্রান্তি ও ভয় দূর হবে। একই সাথে বিভিন্ন সম্প্রদায়গুলো কোনো দ্বিধা বা বাধা ছাড়াই তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সুযোগ পাবে। জেলার এই অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি দ্রুত নিরসনে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কঠোর নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, এখন থেকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘জবাইয়ের সার্টিফিকেট’ (Zubaih Certificate) না থাকলে কেউ পশু জবাই করতে পারবেন না। পাশাপাশি গরুর বয়স অন্তত ১৪ বছর হতেই হবে এবং তা কোনো যত্রতত্র স্থানে করা যাবে না; বাধ্যতামূলকভাবে পুরসভার জবাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট কোনো জবাইখানায় সম্পন্ন করতে হবে। সরকারের এই কড়া নিয়মের পরেই এবার মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নের দুয়ারে কড়া নাড়লেন অধীর চৌধুরী। এখন দেখার, এই চিঠির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী তথা নতুন রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।