১২৫ সিসি স্কুটারে সেরা লড়াই! হোন্ডা অ্যাক্টিভা না কি টিভিএস জুপিটর, কোনটিতে লাভ বেশি?

বর্তমান সময়ে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় জ্যাম কাটিয়ে প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য স্কুটার আমজনতার অন্যতম প্রধান ভরসা। বিশেষ করে ১২৫ সিসি (125cc) সেগমেন্টের স্কুটারগুলির চাহিদা এখন তুঙ্গে। আর এই বাজারে যে দুটি মডেল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা ও তুলনা চলে, সেগুলি হলো ‘হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫’ (Honda Activa 125) এবং ‘টিভিএস জুপিটর ১২৫’ (TVS Jupiter 125)। দুটি স্কুটারই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, আধুনিক ফিচার এবং চালকের স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকে বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

কিন্তু আপনার পকেটের বাজেট, দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং আরামের কথা মাথায় রাখলে ঠিক কোনটি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে? শোরুমে যাওয়ার আগে দুটিরই খুঁটিনাটি তুলনা দেখে নেওয়া যাক:

ইঞ্জিন পারফরম্যান্স

পাওয়ার ও ইঞ্জিনের শক্তির দিক থেকে এই দুটি স্কুটারের মধ্যে খুব বেশি আকাশ-পাতাল তফাত নেই। হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ মডেলে রয়েছে ১২৩.৯২ সিসি-র ইঞ্জিন, যা প্রায় ৮.৩ হর্সপাওয়ার উৎপন্ন করতে পারে। অন্যদিকে, টিভিএস জুপিটর ১২৫ স্কুটারে দেওয়া হয়েছে ১২৪.৮ সিসি-র ইঞ্জিন, যা হোন্ডার তুলনায় সামান্য বেশি পাওয়ার জেনারেট করে। তবে শহরের ট্রাফিকের কথা মাথায় রাখলে, দুটিতেই সিভিটি (CVT) গিয়ারবক্স থাকায় অত্যন্ত স্মুথ ও ঝাঁকুনিহীন রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা মেলে।

মাইলেজ ও তেল সাশ্রয়

মধ্যবিত্তের জন্য স্কুটার কেনার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো তার মাইলেজ। এই জায়গায় টিভিএস জুপিটর ১২৫ সামান্য এগিয়ে রয়েছে। সাধারণ রাস্তা ও হাইওয়ে মিলিয়ে জুপিটর প্রতি লিটার জ্বালানিতে গড়ে প্রায় ৫২ থেকে ৫৮ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ বাস্তব রাস্তায় প্রতি লিটারে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়। রাইডিং স্টাইল এবং রাস্তার পরিস্থিতির ওপর মাইলেজ কিছুটা কম-বেশি হলেও, ফুয়েল ইকোনমির দিক থেকে জুপিটর কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।

আধুনিক ফিচার ও স্টোরেজ

ব্যবহারিক সুবিধা এবং আধুনিক ফিচারের দিক থেকে টিভিএস জুপিটর ১২৫ বেশ খানিকটা টেক্কা দিয়েছে হোন্ডাকে। জুপিটরের সবচেয়ে বড় ইউএসবি হলো এর সিটের তলার বিশাল জায়গা। এতে প্রায় ৩৩ লিটারের আন্ডার-সিট স্টোরেজ রয়েছে, যা এই সেগমেন্টের স্কুটারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়। এর পাশাপাশি এতে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য ইউএসবি পোর্ট এবং উন্নত স্মার্ট কানেক্ট ফিচারও পাওয়া যায়। অন্য দিকে, হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫-এ রয়েছে আকর্ষণীয় এলইডি হেডলাইট, ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং জ্বালানি সাশ্রয় করার জন্য ‘আইডল স্টপ সিস্টেম’।

রাইড কমফোর্ট ও আরাম

যাঁরা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় স্কুটার চালান, তাঁদের জন্য আরাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিভিএস জুপিটর ১২৫-এর সিটটি তুলনামূলক বড় এবং এর সাসপেনশন বেশ নরম, যা শহরের ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকুনি কমাতে সাহায্য করে। তবে হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ রাইডিংয়ের সময় অনেক বেশি স্টেবল বা স্থিতিশীল থাকে এবং এর ইঞ্জিন ভাইব্রেশন অনেক কম, যা চালককে একটি প্রিমিয়াম ও রিফাইন্ড ফিল দেয়।

দাম ও ব্র্যান্ড ভ্যালু

বর্তমান বাজারে টিভিএস জুপিটর ১২৫ কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়। এর দাম শুরু হয় প্রায় ৭৫ হাজার টাকা থেকে এবং টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৮৭ হাজার টাকা পর্যন্ত যায়। সেই তুলনায় হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫-এর প্রারম্ভিক দামই শুরু হচ্ছে প্রায় ৯১ হাজার টাকা থেকে (শহরের নিরিখে এক্স-শোরুম দাম সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে)। তবে দাম কিছুটা বেশি হলেও, বাজারে হোন্ডার দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্যতা, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিসেল মার্কেটে এর চড়া চাহিদার কারণে অ্যাক্টিভাকে অনেকেই একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: কোনটি কিনবেন?

আসলে দুটি স্কুটারই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে সেরা। আপনি যদি ভারতীয় বাজারে দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্যতা, ইঞ্জিনের স্মুথনেস এবং পরে ভালো রিসেল ভ্যালু বা বিক্রয় মূল্য চান, তবে চোখ বন্ধ করে হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ বেছে নিতে পারেন। আর আপনার অগ্রাধিকার যদি হয় কম বাজেট, মোবাইল কানেক্টিভিটি, বেশি মাইলেজ এবং সিটের তলায় ল্যাপটপ বা দুটি হেলমেট রাখার মতো বিশাল স্টোরেজ, তবে টিভিএস জুপিটর ১২৫ আপনার জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে।