বিকেলের শহরে হঠাৎ এ কী পরিস্থিতি! পার্ক সার্কাসে ধুন্ধুমার, ভিড় হটাতে পুলিশের তাড়া, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

ভরসন্ধ্যায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় তড়িঘড়ি এলাকায় নামাতে হয়েছে র‍্যাফ (RAF) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। উত্তপ্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়েছে বলে খবর। এই আকস্মিক ঘটনার জেরে পার্ক সার্কাস এবং এজেসি বোস রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন অফিসফেরত সাধারণ মানুষ।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল গড়াতেই পার্ক সার্কাস মোড়ের কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে বহু মানুষের জমায়েত তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু উপস্থিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং উত্তেজনা আরও বাড়লে, উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশে আসরে নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স, র‍্যাফ এবং কাছাকাছি মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের এই অ্যাকশনের পর আন্দোলনকারীরা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ধুন্ধুমার কাণ্ডের সরাসরি প্রভাব পড়ে কলকাতার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন এজেসি বোস রোড এবং মা ফ্লাইওভার সংলগ্ন রাস্তায়। অফিস ছুটির ব্যস্ত সময়ে এই গোলমালের কারণে চারদিকের রাস্তা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। বাসে ও ট্যাক্সিতে আটকে থাকা যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বর্তমানে পার্ক সার্কাস চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য মোড়ে মোড়ে ভারী পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই উত্তেজনার সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার।