স্ট্রোক থেকে হার্ট ফেইলিওর— কোনো সংকেত ছাড়াই হার্ট ও কিডনি বিকল করছে যে রোগ! আজই সাবধান হোন

আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম আর মানসিক চাপের জেরে বিশ্বজুড়ে যে রোগটি সবচেয়ে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে, তা হলো হাইপারটেনশন (Hypertension)। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ‘উচ্চ রক্তচাপ’ বা হাই ব্লাড প্রেসার বলা হলেও, চিকিৎসকেরা একে চেনেন ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নিঃশব্দ ঘাতক হিসেবে। বিশ্ব হাইপারটেনশন দিবস ২০২৬ (Hypertension Day 2026) উপলক্ষে এই প্রাণঘাতী রোগটির প্রতিরোধ এবং সঠিক সময়ে তা শনাক্ত করার জন্য দেশজুড়ে সচেতনতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগটির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এটি শরীরে বাসা বাঁধার পর প্রাথমিক অবস্থায় কোনো বড়সড় আগাম সতর্কবার্তা বা উপসর্গ দেখায় না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ও জীবন সংশয়কারী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পাঞ্জাব সরকারের মেগা সচেতনতা অভিযান

এই ‘সাইলেন্ট কিলার’-এর হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং এর জটিলতা রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব সরকার। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন ক্রনিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের দোরগোড়ায় উন্নত ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে একটি বড়সড় মিশন শুরু করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের রক্তচাপ পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়রেই রোগটি ধরে ফেলে চিকিৎসা শুরু করা যায়।

কেন একে ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ বলা হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এক বিরাট সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও তাদের একটা বড় অংশই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা রয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তি তীব্র মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান, ততক্ষণে হয়তো রোগটি শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর বড়সড় ক্ষতি করে ফেলেছে। আর এই কারণেই প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর পেছনে পরোক্ষ কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই হাইপারটেনশন।

সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ

জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে এই ‘সাইলেন্ট কিলার’-কে অনায়াসে দূরে রাখা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা:

  • লবণ খাওয়া কমান: রান্নায় লবণের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি কাঁচা লবণ খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করুন। প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার (যেমন চিপস, চানাচুর) এড়িয়ে চলুন।

  • নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা: ৩০ বছর বয়স পার হওয়ার পর প্রত্যেক নাগরিকেরই অন্তত মাসে একবার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাড প্রেসার মাপা উচিত।

  • শারীরিক কসরত: অলস জীবনযাপন হাই ব্লাড প্রেসারের অন্যতম বড় কারণ। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন।

  • ওজন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে ফেলার পাশাপাশি যোগব্যায়াম বা ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।