‘কেউ আটকাতে পারবে না, জবাই হবেই’, কুরবানি নিয়ে হুঁশিয়ারি বিধায়ক হুমায়ুনের

রাজ্যে কুরবানির পশু জবাই নিয়ে সরকারের বেঁধে দেওয়া নতুন গাইডলাইন এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবির। পশু জবাই নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং অন্যদিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ— এই দুই ভিন্ন ইস্যুতে একযোগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিজেপি পরিচালিত নতুন সরকার পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া নিয়ম জারি করেছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই রাজ্যে পশু জবাই করতে হবে, অন্যথা হলে জেল ও মোটা টাকা জরিমানা হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পশু জবাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, গরুর বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং পুরসভার অনুমোদিত জবাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত জায়গাতেই কেবল তা করা যাবে।
সরকারের এই নতুন গাইডলাইন নিয়ে সরাসরি কোনও বিতর্কে না জড়ালেও, কুরবানি নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি সাফ জানান, “কুরবানির সঙ্গে আমরা কোনও সমঝোতা করব না। বিশ্বের মুসলমানরা কুরবানি করবেই। এটা মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব, ত্যাগের উৎসব। এই ধর্মীয় আচারে কেউ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। কুরবানি করা মুসলমানদের অধিকার এবং তা যথানিয়মেই হবে।”
এদিকে, গত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর কমিশনারেটে এফআইআর দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করেছেন হুমায়ুন।
তৃণমূল সাংসদের মন্তব্যের নিন্দা করে বিধায়ক বলেন, “নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে উনি যা বলেছিলেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এভাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কথা বলা যায় না। উনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে, ৪ তারিখ বেলা ১২টার পর সবাইকে দেখে নেওয়া হবে। এটা তো স্পষ্ট হুমকি। আর সেই কারণেই ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, এটাই তো স্বাভাবিক।”
তবে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও, সাম্প্রতিক ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল হুমায়ুনের গলায়। বেআইনি উচ্ছেদ ও বুলডোজার চালানো প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি। হুমায়ুন কবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, “যদি কোথাও বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনকে তা ভাঙতেই হবে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকার যে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা এক্কেবারে সঠিক।” রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে ধর্মীয় বিষয়ে নিজের সম্প্রদায়ের পক্ষে সওয়াল করা, আর অন্যদিকে বেআইনি নির্মাণ ও অভিষেকের এফআইআর ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো— হুমায়ুন কবিরের এই দ্বিমুখী অবস্থান রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ।