গোটা বাংলা নাচছে, চারিদিকে চরম আনন্দ! পুনর্নির্বাচনের আগে ফলতায় এসে এ কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটিতে দাঁড়িয়ে এক অত্যন্ত আবেগঘন অথচ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফলতার নির্বাচনী জনসভা থেকে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি, স্থানীয় সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে মহিলাদের এক আবেগঘন মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন তিনি। যা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফলতার রাজনৈতিক আবহকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
এদিনের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ফলতায় পৌঁছানোর পর এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। মঞ্চে ওঠার আগে স্থানীয় মহিলাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে আসার পর দেখলাম মহিলারা অঝোরে কাঁদছেন। আমি অবাক হয়ে এগিয়ে গেলাম, জিজ্ঞেস করলাম— কী হল আপনাদের? কাঁদছেন কেন? তখন তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে যা বললেন, তা শোনার মতো।” মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, বিগত দিনগুলোতে এই এলাকার মানুষ যেভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, আজ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তাঁদের চোখের জল বাঁধ মানেনি।
ফলতার এই পরিবর্তন এবং পুনর্নির্বাচনের আবহাওয়াকে দেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে তুলনা করতেও পিছপা হননি মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত জনতা ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রাষ্ট্রবাদী এবং সনাতনীদের কাছে এ যেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা। বিগত বছরগুলোর দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে আজ মানুষ মুক্তি পেয়েছেন। আজ গোটা বাংলা নাচছে, কী আনন্দ চারিদিকে!”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২১ মে ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন যে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে, মুখ্যমন্ত্রী তাকেই সাধারণ মানুষের ‘অধিকারের মুক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। একই সাথে ‘রাষ্ট্রবাদী’ ও ‘সনাতনী’ আবেগকে উস্কে দিয়ে তিনি ফলতার মাটিতে পদ্ম ফোটানোর পথ আরও প্রশস্ত করতে চাইছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফলতার এই প্রথম হাইপ্রোফাইল সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই আবেগঘন বয়ান যে ভোটের বাক্সে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।