“৪ বছরে এই প্রথম তেলের দামে বড়সড় বদল!”-ভবিষ্যতে আরও কত টাকা বাড়তে পারে?

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি কোপ পড়ল আমজনতার পকেটে। শুক্রবার এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা বেড়ে গেল পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম। তবে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এই বৃদ্ধি আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আগামী ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১১০ ডলারে ব্রেন্ট ক্রুড, নেপথ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ
আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার প্রতি ব্যারেলে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম পৌঁছে গিয়েছে ১১০ ডলারে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই অপরিশোধিত তেলের দাম এভাবে চড়চড়িয়ে বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে। ভারতে গত ৪ বছরের মধ্যে এই প্রথম পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক লাফে এতটা বাড়ানো হলো। এর ফলে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির লোকসান কিছুটা কমলেও, বিশ্ববাজারে যদি অপরিশোধিত তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকে, তবে ভারতের বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ানোর কোনো বিকল্প থাকবে না।
কেন আগামী ৩-৪ মাস দাম বাড়ার আশঙ্কা?
‘মাস্টার পোর্টফোলিও সার্ভিস লিমিটেড’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গুরমিত সিং চাওলা এই প্রসঙ্গে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণেই এই দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই দাম যদি ৯০ থেকে ১০০ ডলারের ওপরেও থিতু হয়ে যায়, তাহলেও আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ধাপে ধাপে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পকেটে কতটা বড় কোপ পড়তে পারে?
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘চয়েস এনার্জি’-র অ্যানালিস্ট ধাভাল পোপাট। তিনি জানান, শুক্রবার ৩ টাকা দাম বাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির আংশিক লাভ বা ক্ষতিপূরণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিগত দিনে তাদের যে পরিমাণ লোকসান হয়েছে, তা মেটানোর মতো দাম এখনও বাড়েনি।
পরিসংখ্যান দিয়ে পোপাট জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির দাম লিটারে ১ টাকা বাড়লে তিনটি রাষ্ট্রায়াত্ত তেল সংস্থার বার্ষিক ইবিআইটিডিএ (EBITDA) বা পরিচালন মুনাফা প্রায় ১৫,০০০ থেকে ১৬,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। অর্থাৎ, এই ৩ টাকা বাড়ানোর ফলে তাদের রেভিনিউ বা রাজস্ব এক ধাক্কায় প্রায় ৪৫,০০০ থেকে ৪৮,০০০ কোটি টাকা বাড়বে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে লাগামহীন হচ্ছে, তাতে এই লাভও ঢাকা পড়ে যেতে পারে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী দিনে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারে আরও ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হতে পারে, তবেই তেল সংস্থাগুলির দীর্ঘদিনের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব।
এখানে উল্লেখ্য, ভারত নিজের প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামান্য অশান্তি তৈরি হলেই ভারতীয় বাজারে তার বড়সড় ধাক্কা লাগে। শুক্রবারের এই ৩ টাকা বৃদ্ধির পর আগামী দিনগুলিতে তেলের দাম কোন স্তরে গিয়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন সাধারণ মানুষের সবথেকে বড় চিন্তার কারণ।