‘আপস করো, নয়তো ধ্বংস!’ ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মাঝেই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’-র কাউন্টডাউন শুরু? কাঁপছে বিশ্ব

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও বাজতে শুরু করেছে যুদ্ধের দামামা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যেকার আপাত শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই ইরানের ওপর আরেকটি বড় ধরনের বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালাতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করেছে, হোয়াইট হাউসের সবুজ সংকেত পেলেই যাতে আঘাত হানা যায়, সেজন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এই যুদ্ধপ্রস্তুতি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক
সম্প্রতি চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেজিংয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ট্রাম্পের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরান যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কাগজে সই না করলেও, ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবে তিনি যে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সামরিক হামলা বন্ধ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের পথ সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে।

আসছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’: কোমর বাঁধছে পেন্টাগন
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন হাত গুটিয়ে বসে নেই। সূত্রের খবর, তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’-এর জন্য ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রয়োজন দেখা দিলেই হামলা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আগামী সপ্তাহেই ইরানের ওপর বড়সড় এয়ার স্ট্রাইক চালানোর ছক কষছে। উল্লেখ্য, চীন সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “ইরান হয় আপস করবে, না হয় সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।”

ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে ট্রাম্পের হাতে ৩টি ভয়ঙ্কর বিকল্প
পেন্টাগন সূত্রের খবর, ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে মার্কিন সেনা মূলত তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা বা অপশন নিয়ে কাজ করছে:

১. ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: প্রথম বিকল্পটি হলো ইরানের প্রধান সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালানো। ট্রাম্প এর আগে ইরানের বেসামরিক পরিকাঠামোতেও হামলার হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
২. স্থলপথে কমান্ডো অপারেশন: দ্বিতীয় বিকল্পটি আরও বিপজ্জনক। ইরানের মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে (Special Forces) সরাসরি ভূগর্ভে পাঠানো। তবে এই অপারেশনের জন্য হাজার হাজার মার্কিন সেনা লাগবে এবং এতে সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।
৩. তেল রফতানি কেন্দ্র দখল: তৃতীয় বিকল্পটি হলো ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। এর জন্য ইরানের তেল রফতানির মূল কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন সেনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। তবে পারস্য উপসাগরের এই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা মার্কিন বাজেটের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে।

পাল্টা মারের হুঁশিয়ারি তেহরানের, সক্রিয় ৩০টি মিসাইল ঘাঁটি
আমেরিকার এই রণংদেহী মেজাজ দেখে দমে যেতে রাজি নয় ইরানও। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, “যদি ইরানের ওপর একটিও আঘাত আসে, তবে তার কঠোর এবং কল্পনাতীত জবাব দেওয়া হবে।”

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীর চারপাশে থাকা তাদের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করে তুলেছে। জানা গেছে, তাদের মোট ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় (Combat Ready) রয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো থেকে যেকোনো মুহূর্তে প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং আন্তর্জাতিক তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর মিসাইল বৃষ্টি হতে পারে, যা গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখন দেখার, আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের এই বারুদের স্তূপ কোন দিকে মোড় নেয়।