রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে বড় স্বস্তি রবার্ট ভাদরার! জামিন পেয়েই মোদী সরকারকে তীব্র তোপ দাগলেন প্রিয়াঙ্কার স্বামী

লোকসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী তথা ব্যবসায়ী রবার্ট ভাদরা। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত গুরুগ্রাম জমি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলায় রবার্ট ভাদরার জামিন মঞ্জুর করেছে। ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ টাকার একজন জামিনদারের শর্তে আদালত এই স্বস্তি দিয়েছে ভাদরাকে।
আদালতের এই রায়ের পর রবার্ট ভাদরা বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ED) তীব্র কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি।
‘আমার লুকানোর কিছু নেই’, সরকারকে তোপ ভাদরার
আদালত থেকে বেরোনোর পর রবার্ট ভাদরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমার লুকানোর মতো কিছু নেই এবং আদালতের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি সবসময় প্রস্তুত।” কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “ইডি সম্পূর্ণভাবে সরকারের নির্দেশে কাজ করছে। এজেন্সিগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আমাদের মতো মানুষদের এটা সহ্য করে যেতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে ভাদরার আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, এই মামলায় জামিন চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ তদন্ত চলাকালীন রবার্ট ভাদরাকে কখনোই গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে তাঁকে সরাসরি এই মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত।
আরও সময় চাইল ইডি, পরবর্তী শুনানি ১০ জুলাই
রবার্ট ভাদরাকে গ্রেপ্তার না করেই এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছিল ইডি। শুনানির সময় ইডির আইনজীবী জোয়েব হুসেন অনলাইনে উপস্থিত হয়ে আদালতকে জানান যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই মামলার একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিচ্ছে। তবে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকড় আরও গভীরে ছড়ানো থাকায়, আরও তদন্তের স্বার্থে এবং অতিরিক্ত রিপোর্ট পেশ করার জন্য আদালতের কাছে আরও ২ সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছেন ইডির আইনজীবী।
আদালত ইডির চার্জশিট আমলে নিয়ে রবার্ট ভাদরাকে তলব করেছিল, যাকে ভাদরার আইনি টিম ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ১০ জুলাই।
কী এই গুরুগ্রাম জমি কেলেঙ্কারি?
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অভিযোগ, গুরুগ্রামের শিকোহপুর এলাকায় সাড়ে তিন একর জমি নিয়ে একটি বড়সড় বেআইনি ও অনিয়মিত লেনদেন হয়েছিল।
ইডির দাবি, রবার্ট ভাদরার মালিকানাধীন একটি কোম্পানি ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ওমকারেশ্বর প্রপার্টিজ’-এর কাছ থেকে মাত্র ৭.৫ কোটি টাকায় ওই জমিটি কিনেছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই জমিটিই ‘ডিএলএফ’ (DLF) কোম্পানির কাছে চড়া দামে, অর্থাৎ ৫৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার সন্দেহ, এই বিপুল অঙ্কের মুনাফা এবং লেনদেনের পেছনে বড়সড় মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের যোগ রয়েছে। এই অর্থের আসল উৎস খুঁজতেই তদন্ত শুরু করে ইডি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইডি যে চার্জশিট দাখিল করে, সেখানে রবার্ট ভাদরা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আগামী ১০ জুলাই আদালত এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।