যুবসাথী প্রকল্প কি তবে বন্ধ? রাজ্যের বেকারদের জন্য এবার ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে বড় ঘোষণা নতুন সরকারের!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর জল্পনা চলছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার রাজ্যের লাখ লাখ বেকার যুবক-যুবতীদের নজর আটকে রয়েছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ওপর। বিগত সরকারের আমলে চালু হওয়া এই বেকারভাতা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে অবশেষে বড় আপডেট সামনে এলো। তৃণমূলকে সরিয়ে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসতেই এই প্রকল্পের রূপরেখা ও ভাতার অঙ্কে বড়সড় বদল ঘটতে চলেছে।
যুবসাথী থেকে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’: ভাতার অঙ্ক দ্বিগুণ!
নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগেই বিজেপি তাদের ইশতেহারে রাজ্যের যুবকদের জন্য ‘যুবশক্তি ভরসা’ (Yuva Shakti Varosa Card) কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জানানো হয়েছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেতেন। মার্চ মাস থেকেও এই ভাতা অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছিল। তবে নতুন ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ চালু হলে এই ভাতার পরিমাণ বেড়ে সরাসরি ৩,০০০ টাকা হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে আশার আলো দেখছেন রাজ্যের কর্মহীন তরুণ-তরুণীরা।
কবে থেকে শুরু হবে আবেদন প্রক্রিয়া?
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের পরিকাঠামো গঠনের কাজ সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগছে। সেই কারণেই ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্পের অফিশিয়াল পোর্টালটি নতুন আবেদনের জন্য এখনও খোলা হয়নি।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, আগামী জুন মাস থেকেই এই নতুন মেগা প্রকল্পের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বা আবেদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আগের নিয়মেই যুবসাথী প্রকল্পের ডেটা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। সরকারের তরফে যতক্ষণ না নতুন অফিশিয়াল লিঙ্ক বা ওয়েবসাইটের ঘোষণা হচ্ছে, ততক্ষণ চাকরিপ্রার্থীদের অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনের জন্য কোন কোন নথি তৈরি রাখবেন?
নতুন পোর্টাল চালু হওয়া মাত্রই যাতে আবেদন করতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বেকার যুবক-যুবতীদের আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সরকারি নথিগুলি প্রস্তুত রাখতে বলা হচ্ছে। আবেদন করার সময় সম্ভাব্য যে সমস্ত কাগজপত্র আপলোড করতে হতে পারে, সেগুলি হলো:
ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা আধার কার্ড
ভোটার আইডি কার্ড
বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card)
শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সার্টিফিকেট ও মার্কশিট
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Employment Exchange Card)
যে অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা ঢুকবে, সেই ব্যাঙ্কের পাসবুক
আবেদনকারীর সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি
নতুন সরকার এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের নথিপত্র এবং যোগ্যতার মাপকাঠি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে যাচাই করতে পারে বলে নবান্নের অন্দরে গুঞ্জন। অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া মাত্রই আবেদনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা ও পোর্টালের লিঙ্ক সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হবে।