১০ মিনিটে প্লাস্টিকের ডিম ডেলিভারি? সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদের পর ব্লিঙ্কিটকে বিরাট কোপ দিল FSSAI!

ঘড়ির কাঁটা ধরে মাত্র ১০ মিনিটে বাড়ির দোরগোড়ায় মুদিখানার জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে দেশজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্লিঙ্কিট (Blinkit)। কিন্তু এবার সেই ব্লিঙ্কিটের বিরুদ্ধে উঠল অত্যন্ত গুরুতর এক অভিযোগ। ব্লিঙ্কিট অ্যাপ থেকে কেনা ডিম নাকি আদতে ডিমই নয়, বরং পচা, রাবারের মতো বা প্লাস্টিক-সদৃশ কোনো বিপজ্জনক উপাদান! এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকদের একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগের পর এবার সরাসরি ময়দানে নামল দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI)।
সম্প্রতি এক্স (টুইটার) সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্লিঙ্কিট থেকে কেনা ডিমের মান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বহু মানুষ। এক জনপ্রিয় ট্রাভেল ব্লগারের ভিডিও তো রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্লিঙ্কিট থেকে অর্ডার করা ডিম বাইরে থেকে দেখতে স্বাভাবিক হলেও ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত কালো তরল বেরোচ্ছে। অনেক গ্রাহক আবার অভিযোগ করেছেন, ডিম সেদ্ধ বা রান্না করার পর দেখা যাচ্ছে তার গঠন ও টেক্সচার অবিকল রাবার কিংবা প্লাস্টিকের মতো, যা কোনোভাবেই মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। ভুলবশত কেউ এই ডিম খেয়ে ফেললে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারত।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয় এফএসএসএআই। শুক্রবার ব্লিঙ্কিট-এর মূল সংস্থা ‘ব্লিঙ্ক কমার্স প্রাইভেট লিমিটেড’-কে একটি কড়া আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে ব্লিঙ্কিটকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের ডিম সরবরাহ নিয়ে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ই-কমার্স ফুড অপারেটর হিসেবে তারা নিয়ম মেনে সমস্ত গুণমান পরীক্ষা করছে কি না, সেই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট (Action Taken Report) জমা দিতে বলা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্লিঙ্কিটের মতো অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপগুলিও তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া প্রতিটি খাদ্যপণ্যের সুরক্ষার জন্য সমানভাবে দায়ী। এফএসএসএআই সূত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব বা রিপোর্ট না মিললে ২০০৬ সালের ফুড সেফটি আইনের অধীনে ব্লিঙ্কিটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা জরিমানা করা হতে পারে। তবে এই নোটিশ পাওয়ার পর ব্লিঙ্কিট বা তার অভিভাবক সংস্থা জোম্যাটো (Zomato)-র পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপাতত সাত দিনের এই সময়সীমায় ব্লিঙ্কিট কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের।