গাছের তলায় শুনানি নাকি অন্য কিছু? জ্বালানি সাশ্রয় করতে সুপ্রিম কোর্টের এই বড় সিদ্ধান্তে তোলপাড় দেশ!

দেশের রাজধানী দিল্লির লাগামছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লির স্কুলগুলোতে ইতিমধ্যেই পরিবেশ রক্ষার্থে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এবার সেই পথেই হেঁটে দেশের শীর্ষ আদালত প্রাঙ্গণেও কার্বন নির্গমন কমানো এবং সবুজায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশনায় আদালতের দৈনন্দিন কাজকর্মে বেশ কিছু পরিবেশবান্ধব বদল আনা হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয় ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কাগজের ব্যবহার কমানো এবং বিচারকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ওপর জোর দেওয়া। আদালত কক্ষগুলোকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার যে প্রক্রিয়া চলছিল, সেটিকে আরও দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ কাগজ বাঁচবে, তেমনই কাগজের ফাইল পরিবহনের খরচ ও জ্বালানিও সাশ্রয় হবে।
পাশাপাশি, দেশের শীর্ষ আদালত চত্বরে যে সমস্ত সরকারি গাড়ি চলাচল করে, সেগুলোকে ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব বা ব্যাটারিচালিত গাড়িতে রূপান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশকে আদালতের ভেতরে বা বাইরে যাতায়াতের জন্য সাইকেল বা বৈদ্যুতিক শাটল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালতের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে হাইব্রিড সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রশাসনিক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি যখন বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছায়, তখন দেশের সর্বোচ্চ বিচারবিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেয়। সুপ্রিম কোর্ট নিজেই এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিবেশ রক্ষায় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে আরও সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।