১ জুনের পর থেকে আর টেবিলের তলা দিয়ে ফাইল গলবে না? শুভেন্দুর নতুন ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ কাঁপছে দুর্নীতিবাজেরা!

সাধারণ মানুষের দুয়ারে প্রশাসনিক পরিষেবা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অভিযোগগুলির দ্রুততম নিষ্পত্তি করতে এবার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১ জুন থেকে নবান্নে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত কর্মসূচি ‘জনতার দরবার’। প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে নিচুতলা পর্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সরাসরি আমজনতার অভাব-অভিযোগ শুনতেই এই বিশেষ উদ্যোগ বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্থানীয় স্তরে বা জেলা স্তরে গিয়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারেন না। লাল ফিতের ফাঁসে বছরের পর বছর আটকে থাকে বিভিন্ন ফাইল। এবার সেই সমস্ত সমস্যার এক লপ্তে অবসান ঘটাতেই চালু হচ্ছে এই ‘জনতার দরবার’।

কীভাবে কাজ করবে এই জনতার দরবার?

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু দিনে এই দরবার বসবে। যেখানে রাজ্যের যেকোনো প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ এসে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে তাঁদের লিখিত অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। শুধু অভিযোগ জমা নেওয়াই নয়, সেই অভিযোগের ওপর সংশ্লিষ্ট দফতর কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগের দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (Time-bound) নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কড়া নজরে থাকবে দুর্নীতি ও আধিকারিকদের ভূমিকা

মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো প্রশাসনের অন্দরে থাকা দুর্নীতি এবং ঢিলেমিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা। অনেক সময় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না মেলায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ে। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টির ওপর নজর রাখায়, কোনো আধিকারিক বা দফতর কাজে গাফিলতি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ১ জুনের এই মেগা কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই নবান্নে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

Editor001
  • Editor001