৫০ বছরে কলকাতা বইমেলা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কাছে বড় আবদার পাঠকদের

সালটা ছিল ১৯৭৬। ছোট পরিসরে পথ চলা শুরু করে আজ তা মহীরুহ। প্রযুক্তির চরম দাপট, আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েডের যুগেও বাঙালির বইয়ের প্রতি টান যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। দুর্গাপুজোর পরই যা বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। আর আগামী বছর, এই প্রাণের মেলা পা দিতে চলেছে ৫০ বছরে।

বইমেলার এই ঐতিহাসিক সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে এখন থেকেই কোমর বাঁধছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। তবে এবারের মেলা শুধু আবেগের নয়, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পালাবদলের পর এক বড় পরীক্ষারও।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দরবারে গিল্ড

৫০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাকে রাজকীয় রূপ দিতে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শ ও সহযোগিতা চাইছে গিল্ড। সেই লক্ষ্যে মেলার বিশেষ রূপরেখা চূড়ান্ত করতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের সময় চাওয়া হয়েছে। গিল্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নবান্নে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “যেহেতু এটি বইমেলার ৫০ বছর, তাই আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর মূল্যবান পরামর্শ নিতে চাই। তাঁর মতামত এবং নির্দেশিকা অনুযায়ীই সুবর্ণজয়ন্তীর চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজানো হবে।”

ভাঙবে কি বিক্রির সব রেকর্ড?

কলকাতা বইমেলা মানেই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা আর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম। পরিসংখ্যান বলছে, ৪৮তম বইমেলায় প্রায় ২৭ লক্ষ দর্শনার্থী এসেছিলেন এবং বই বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২৩ কোটি টাকার। আর ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ৪৯তম সংস্করণে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দর্শনার্থীর সংখ্যা পৌঁছায় ৩২ লক্ষে, যেখানে বই বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২৬ কোটি টাকার! ৫০ বছরের মাইলফলকে এই সংখ্যা যে আরও কয়েক গুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। আর সেই কারণেই পাঠকদের দাবি, ৫০তম বইমেলার মেয়াদ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক এবং তাতে যেন বেশি করে ছুটির দিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মমতার ‘বইতীর্থ’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী?

গতবারের বইমেলা মঞ্চ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণের স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ‘বইতীর্থ’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন এবং তার জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছিলেন। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এখন সেই ১০ কোটির ‘বইতীর্থ’ প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে প্রকাশকদের মনে যেমন সংশয় রয়েছে, তেমনই প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে পাঠকদের মনেও। গিল্ড ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে এই বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মঞ্চে আন্তর্জাতিক ছোঁয়া

কলকাতা বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও এক বড় ক্ষেত্র। ২০১১ সালের পর বাংলাদেশ একাধিকবার মেলায় অনুপস্থিত থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিনের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া রাশিয়া এবং বিশ্বের একাধিক দেশ এই মেলায় অংশ নিয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কলকাতাকে আরও বড় করে তুলে ধরাই এখন মূল লক্ষ্য গিল্ডের।