অকালমৃত্যুর দেড় মাস পর স্বাভাবিক ছন্দে সহজ, মায়ের হাত ধরে মঞ্চে উঠে কী করল খুদে?

শোকের মেঘ কাটিয়ে ধীরে ধীরে রোদের উঁকি। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণের ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই শুরু করেছে তাঁর পরিবার। তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে রাহুলের সেই আকস্মিক চলে যাওয়ার ঘটনা আজও ভুলতে পারেননি অনুরাগীরা। তবে জীবনের নিয়ম মেনে কাজে ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। আর বাবার অভাব পূরণ করতে এখন একমাত্র ছেলের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি শহরে আয়োজিত হয়েছিল পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের নতুন ছবি ‘নধরের ভেলা’-র একটি বিশেষ শো। এই ছবির প্রদর্শনীর স্টাইলটি আর পাঁচটা সিনেমার চেয়ে আলাদা। অনেকটা থিয়েটারের আমেজে মঞ্চে প্রদর্শিত হচ্ছে এই ছবি। আর সেখানেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা।
মঞ্চে খুদে ‘সহজ’ ও ‘অভিমন্যু’
বাবার চলে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনও পাবলিক অনুষ্ঠানে মায়ের হাত ধরে দেখা গেল সহজকে। বাবার মৃত্যুর ধাক্কা সহজ কীভাবে সামলাচ্ছে, তা নিয়ে প্রিয়াঙ্কা জানান, “সহজ নিজের মতো করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ওর যখন মনে হবে কিছু বলা দরকার, ও নিজে থেকেই বলবে।” তবে এদিন মঞ্চে সহজকে বেশ সাবলীল দেখিয়েছে। শুধু সহজ নয়, এদিন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীও তাঁর ছেলে অভিমন্যুকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে দুই খুদে মিলে কেক কেটে ছবির সাফল্য উদযাপন করে।
ছকভাঙা ‘নধরের ভেলা’
প্রথাগত বড় পর্দা বা মাল্টিপ্লেক্স নয়, ‘নধরের ভেলা’ নিয়ে বাংলা ও বিদেশের বিভিন্ন থিয়েটার মঞ্চে পৌঁছে যাচ্ছেন নির্মাতারা। এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, সিনেমা শেষ হওয়ার ঠিক পরেই পর্দার কলাকুশলীরা মঞ্চে এসে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। নাটকের আঙিনায় এই রীতি পরিচিত হলেও সিনেমার ক্ষেত্রে এটি বেশ অভিনব।
এদিন প্রিয়াঙ্কা এবং ঋত্বিককে সামনে পেয়ে দর্শকরাও আপ্লুত হন। একদিকে যেমন ‘নধরের ভেলা’-র প্রশংসা শোনা যায় দর্শকদের মুখে, তেমনই সহজকে হাসিখুশি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন রাহুল-ভক্তরা। শোক কাটিয়ে জীবনের মূল স্রোতে ফেরার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছে টলিপাড়ার সহকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ।