TMC-থেকে বিজেপিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, জেনেনিন কী বলছে RSS?

বাংলার রাজনীতিতে ‘শুভেন্দু যুগ’ শুরু হওয়ার পর থেকেই এক বিশেষ প্রশ্ন বারবার ঘোরাফেরা করছিল— আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ কি তৃণমূল থেকে আসা এই নেতাকে পূর্ণ হৃদয়ে মেনে নিয়েছে? অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিলেন খোদ সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবলে। সাফ জানালেন, শুভেন্দু অধিকারী এখন আর বাইরের কেউ নন, তিনি সঙ্ঘ পরিবারেরই গর্বিত এক ‘সন্তান’।
“ছেলেকে নিয়ে আমরা গর্বিত”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হোসবলেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারী, সম্রাট চৌধুরী বা হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো নেতারা অন্য দল থেকে এসে বিজেপিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়াকে সঙ্ঘ কীভাবে দেখছে? উত্তরে তিনি বলেন, “বিজেপি বাড়ছে মানেই দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। আমরা এতে খুশি।” শুভেন্দু অধিকারীকে কি তবে সঙ্ঘের ‘জামাই’ হিসেবে দেখা হচ্ছে? হোসবলে হাসিমুখে জবাব দেন, “আমরা আমাদের এই ছেলেকে নিয়ে গর্বিত।”
সদস্যপদের ফর্ম ছাড়াই সঙ্ঘের অংশ
শুভেন্দু অধিকারীর আরএসএস-এ যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে হোসবলে এক অনন্য পারিবারিক উপমা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সঙ্ঘে কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ নেই। এমনকি আমিও কোনো ফর্মে সই করিনি। এটি একটি পরিবারের মতো। ঠিক যেমন বাড়ির নতুন বৌকে ঘরে তোলার সময় কোনো ফর্ম পূরণ করতে হয় না, তিনি স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের অংশ হয়ে যান, শুভেন্দু বাবুও তেমনই এই মতাদর্শগত পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
বাংলার জয়: ‘হিন্দু সমাজের লড়াই’
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে সঙ্ঘের ভূমিকা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলার এই পরিবর্তন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি একটি ‘জনমতের সুনামি’। হোসবলের দাবি, “কমিউনিস্ট ও তৃণমূল জমানায় আমাদের স্বয়ংসেবকরা বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এবারের নির্বাচন ছিল পুরো হিন্দু সমাজের লড়াই। প্রতিটি হিন্দু ভোটার দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের স্বার্থে নিজের কাজ করেছেন।”
ভোট পরবর্তী হিংসা ও সঙ্ঘের ভূমিকা
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সঙ্ঘের অবস্থান স্পষ্ট করে হোসবলে জানান, সঙ্ঘ কোনো সেনাবাহিনী নয়, বরং সমাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কাজ করে। অতীতের হিংসার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের নিরাপত্তার জন্য স্বয়ংসেবকরা সবসময় কাজ করেছে। আমরা শুধু শাখা পরিচালনা করি না, দেশপ্রেমিক মানুষ তৈরি করি।”
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই এখন বাংলার শাসনভার। আর তার মধ্যেই আরএসএস-এর এই প্রকাশ্য সমর্থন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চালচিত্রে শুভেন্দুর অবস্থানকে যে আরও শক্তিশালী করল, তা বলাই বাহুল্য। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এই খবর এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।