উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির অভিশাপ! প্রবল ঝড়ে মৃত্যু ৮৯ জনের, ধ্বংসের স্তূপের মধ্যে যোগী আদিত্যনাথের কড়া নির্দেশ

উত্তরপ্রদেশে কালবৈশাখীর বিধ্বংসী রূপ। গত কয়েক ঘণ্টার প্রবল ঝড়, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টির তাণ্ডবে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশের বৃহত্তম এই রাজ্যটি। সরকারি ও বেসরকারি সূত্র মিলিয়ে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৯ জন। ভেঙে পড়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, উপড়ে গিয়েছে মাইলের পর মাইল বিদ্যুৎ সংযোগকারী খুঁটি ও গাছপালা।

প্রয়াগরাজ ও ভদোহিতে সর্বাধিক মৃত্যু
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে যে ভয়াবহ রিপোর্ট সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রয়াগরাজ এবং ভদোহি জেলা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়াগরাজে ১৭ জন এবং ভদোহিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ির দেওয়াল ধসে অথবা গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি গায়ের ওপর পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফতেপুরে দেওয়াল চাপা পড়ে ৫ জন মহিলাসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রতাপগড়, বদায়ুঁ এবং কানপুর দেহাতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বজ্রপাতে প্রাণহানি ও আহত শতাধিক
তীব্র দাবদাহের পর এই স্বস্তির বৃষ্টি যে এমন বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা কল্পনা করতে পারেনি উত্তরপ্রদেশবাসী। বজ্রপাতে মাঠের কাজ করা কৃষক থেকে শুরু করে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ— রেহাই পায়নি কেউ। দেওরিয়া এবং কানপুর দেহাতে বজ্রপাতে একাধিক তরুণী ও বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি প্রচুর গবাদি পশুরও প্রাণহানি ঘটেছে।

যোগী আদিত্যনাথের কড়া দাওয়াই
রাজ্যের এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার রাতেই তিনি উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন:

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে সরকারি ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।

রাজস্ব ও কৃষি দফতরকে দ্রুত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

জেলাশাসকদের (DM) সশরীরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উদ্ধারকাজ ও বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টা উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রশাসনের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।