পলাতক আর থাকা হলো না! কলকাতা পুলিশের ডিসি-র লুকআউট সার্কুলার থেকে ইডি-র জেরা— নেপথ্যে কোন রহস্য?

তিলোত্তমার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য! দীর্ঘ টালবাহানা আর একাধিকবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) মুখোমুখি হলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দুই আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে হাজিরা দেন তিনি। কোনো সাধারণ অভিযোগ নয়, বরং তিনটি আলাদা আলাদা বড় মাপের দুর্নীতি ও তোলাবাজি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে থাকায় অস্বস্তি বাড়ছে লালবাজারের।

কেন ইডির রেডারে এই দুঁদে অফিসার?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। মূলত যে তিনটি ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা, সেগুলি হলো:

‘সোনা পাপ্পু’ তোলাবাজি মামলা: এই কুখ্যাত তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে চক্রটিকে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে আগে লুকআউট সার্কুলার জারি করেছিল ইডি।

এনআরআই কোটায় ভর্তি দুর্নীতি: অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন নামী কলেজে এনআরআই কোটায় বেআইনিভাবে ছাত্র ভর্তির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তিনি। এই সংক্রান্ত বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি।

বালি পাচার মামলা: রাজ্যের অবৈধ বালি পাচার চক্রের তদন্তে নেমেও একাধিক পুলিশ আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম এই ডেপুটি কমিশনার।

নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি ও চূড়ান্ত চাপ
জানা গিয়েছে, এর আগে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তা এড়িয়ে যান এই আধিকারিক। শেষমেশ পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর হয়ে দাঁড়ায় যে, গতকাল ইডির তরফে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর হদিশ জানতে চাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অনড় মনোভাবের ফলেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে আজ হাজিরা দিতে বাধ্য হন তিনি।

স্পিকটি নট ডিসি!
এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে সংবাদমাধ্যমের ভিড় থাকলেও কোনো মন্তব্য করতে চাননি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। তাঁর আইনজীবীরাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন, ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর কি কোনো নতুন তথ্য সামনে আসবে? নাকি এর পেছনে আরও প্রভাবশালী কারো যোগসূত্র খুঁজে পাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা?

রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী শিবির প্রশাসনের একাংশের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হয়ে পড়াকেই দায়ী করছে। অন্যদিকে, শাসকদলের দাবি— তদন্তের নামে পরিকল্পনা করে কিছু যোগ্য অফিসারকে হেনস্থা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আজকের এই জেরা যে রাজ্যের পুলিশি ও রাজনৈতিক বৃত্তে বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।