মন্দিরে না গেলেই কি আপনি হিন্দু নন? সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে শোরগোল! বাড়িতে প্রদীপ জ্বালালে যা বললেন প্রধান বিচারপতি!

হিন্দু ধর্ম বা হিন্দুত্ব আসলে ঠিক কী? এটি কি কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠান আর মন্দিরে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? এই চিরন্তন প্রশ্নে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হিন্দু ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট রীতিনীতি বা মন্দির দর্শনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি ‘জীবনযাপনের পথ’ বা ওয়ে অফ লাইফ।
প্রদীপ জ্বালালেই ধর্ম প্রমাণিত: প্রধান বিচারপতি
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির একটি সাংবিধানিক বেঞ্চে শবরীমালা মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে নারীদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল। সেই সময় হিন্দু ধর্মের নমনীয়তা নিয়ে বড় মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি যদি তাঁর কুঁড়েঘরের মধ্যে কেবল একটি প্রদীপ জ্বালায়, তাহলেই তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস প্রমাণিত হয়।” অর্থাৎ, ধর্মের প্রমাণের জন্য আড়ম্বর বা জটিল ক্রিয়াকলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।
‘হিন্দু হতে মন্দির বাধ্যতামূলক নয়’
একই বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি বিভা নাগরত্না যোগ করেন, “হিন্দুত্বকে জীবনযাপনের একটি ধারা বলা হয়। হিন্দু হয়ে থাকতে প্রতিদিন মন্দিরে যাওয়া বা কোনো বিশেষ আচার পালন করা বাধ্যতামূলক নয়।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আধুনিক প্রজন্মের ব্যস্ত মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শহর বা গ্রামের কোনো সাধারণ মানুষ যদি মন্দিরে না গিয়েও নিজের মতো করে আধ্যাত্মিক সাধনা করেন, তিনিও সমানভাবে হিন্দু।
অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ রুখতে কড়া বার্তা
আদালত এই শুনানির সময় একটি সতর্কবার্তাও জারি করেছে। বিচারপতিদের মতে, প্রতিটি ধর্মীয় প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করে অকারণে আদালতে টেনে আনা উচিত নয়। হিন্দু ধর্মের যে উদার ও নমনীয় স্বভাব রয়েছে, তাকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। সনাতন ধর্মের মূল সত্তায় আঘাত করে এমন কোনো বিতর্ক বা নির্বাচিত আক্রমণ থেকে ধর্মকে রক্ষা করার পক্ষেই সওয়াল করেছে শীর্ষ আদালত।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সংবিধান
সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ধর্ম একটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। সামাজিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করাই আদালতের কাজ। হিন্দু ধর্মের অন্তর্ভুক্তির চেতনাকে স্বীকৃতি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বুঝিয়ে দিল, সনাতন ধর্ম কোনো কঠোর নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ নয়, বরং তা সরলতা ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে ধর্মীয় বিতর্ক কমাতে এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে আইনি স্বীকৃতি দিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।