বিজেপি-তৃণমূল তরজার মাঝে এবার গর্গ-কাঁটা! গ্রেফতারির পর কেন রণক্ষেত্র সোশ্যাল মিডিয়া? জানুন আসল কারণ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর পরিচিত মুখ এবং ‘বাংলা পক্ষ’-এর প্রতিষ্ঠাতা গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। বুধবার তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ আসতেই বিতর্কের বারুদে কার্যত অগ্নিসংযোগ হয়েছে। একদিকে যখন আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিচ্ছে পুলিশ, অন্যদিকে তখন ‘বাঙালি আবেগে’ আঘাতের অভিযোগ তুলছেন তাঁর সমর্থকরা।
কেন এই গ্রেফতারি? বিতর্কের উৎস
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর বিভিন্ন উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং বহিরাগত বিরোধী স্লোগান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল একাধিক মহল। অভিযোগ, বিভিন্ন জনসভা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় করা তাঁর কিছু বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক বিভেদ তৈরি করছে। তবে এবারের গ্রেফতারির নেপথ্যে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি প্রধান হয়ে দাঁড়াল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নেপথ্যে কি রাজনৈতিক চাল?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর থেকেই সরব হয়েছে ‘বাংলা পক্ষ’-এর কর্মীরা। তাঁদের দাবি, বাঙালির অধিকারের কথা বলাতেই কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে বাঙালির এই জাতীয়তাবাদী আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতেই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় শিবিরের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময় সরব হওয়া গর্গকে ঘিরে এই আইনি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর খবর চাউর হতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন একদল অনুগামী। তাঁদের মতে, গর্গ চট্টোপাধ্যায় কোনো অপরাধী নন, বরং তিনি বাঙালির স্বার্থের পাহারাদার। অন্যদিকে, সমালোচকদের বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন; উস্কানিমূলক কথা বললে শাস্তি হওয়াই স্বাভাবিক।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
আপাতত চার দিন লালবাজারের বা স্থানীয় থানার লকআপেই রাত কাটবে এই নেতার। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কী তথ্য দেন এবং আগামী চার দিন পর আদালত তাঁকে জামিন দেয় না কি ফের শ্রীঘরে পাঠায়, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই লড়াকু নেতার ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায় এই খবরের প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে নজর রাখুন।