নন্দীগ্রাম নয়, মমতার খাসতালুককেই বেছে নিলেন শুভেন্দু! কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়। দুই কেন্দ্রে জয়ী হলেও শেষ পর্যন্ত নিজের পুরনো গড় নন্দীগ্রাম নয়, বরং কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটিকেই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি নিজেই এই বড় ঘোষণা করেন।
সম্প্রতি সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় আসনেই জয়লাভ করেছিলেন। তবে আজ ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন।
নন্দীগ্রামের জন্য ‘বিশেষ’ পরিকল্পনা
ভবানীপুর ধরে রাখার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিধানসভা চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রাম আসন থেকে উপনির্বাচনের মাধ্যমে অন্য একজন বিধায়ক নির্বাচিত হবেন। তবে সেখানকার মানুষ আমার অনুপস্থিতি বোধ করবেন না। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো নন্দীগ্রামের উন্নয়নের জন্য দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের লড়াইয়ের ইতিহাস টেনে এনে তিনি বলেন, “২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যখন ফিরোজা বিবি নন্দীগ্রামের বিধায়ক ছিলেন, তখনও আমি সেখানকার মানুষের পাশে ছিলাম। অথচ তখন আমি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই আসনের বিধায়ক ছিলাম না। এবারও আমি ঠিক সেই ভূমিকাই পালন করব।”
লড়াইয়ের ময়দান ও জয়
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর আসনে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে হারিয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন তিনি।
বিধানসভায় কর্মব্যস্ত প্রথম দিন
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় নিজের প্রথম দিনে একগুচ্ছ কর্মসূচিতে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা ভবনে প্রবেশের আগে প্রবেশদ্বারে মাথা নত করে প্রণাম করেন তিনি। এরপর ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। বিধানসভা চত্বরে তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি শপথ নেন নতুন বিধানসভার অন্যান্য সদস্যরাও। অস্থায়ী স্পিকার তাপস রায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। নবনিযুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে অগ্নিমিত্র পাল, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশিত প্রামাণিক এদিন বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৯৪ সদস্যের এই বিধানসভায় নতুন সরকারের পথচলা আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পেল।