মাসে ৬১,০০০ টাকা পেনশন! ২৫ বছরের এই ‘ম্যাজিক’ প্ল্যানে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি!

অবসর জীবনের কথা ভাবলে অনেকেরই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা করলে অবসরকালীন সময়েও রাজকীয় জীবন কাটানো সম্ভব। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ঝুঁকিহীন এবং করমুক্ত বিনিয়োগের পথ খুঁজছেন, তাদের জন্য পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF) একটি তুরুপের তাস হতে পারে। চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Interest) শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২৫ বছরে ১ কোটি টাকারও বেশি তহবিল গঠন করা এখন কোনো অলীক স্বপ্ন নয়।

কোটিপতি হওয়ার গণিত: পিপিএফ-এর জাদুকরী শক্তি
বর্তমানে পিপিএফ অ্যাকাউন্টে বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে সরকার। প্রতি তিন মাস অন্তর এই সুদের হার পর্যালোচনা করা হয়। হিসাব বলছে, যদি কোনো বিনিয়োগকারী প্রতি অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করেন এবং এটি টানা ২৫ বছর চালিয়ে যান, তবে বর্তমান সুদের হারে তাঁর মোট জমানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১.০৩ কোটি টাকা। মজার বিষয় হলো, এই বিশাল অঙ্কের মধ্যে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকাই আসবে শুধুমাত্র সুদ বাবদ।

৫ এপ্রিলের ‘গোল্ডেন ট্রিক’
বিনিয়োগের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি বছর ৫ই এপ্রিলের মধ্যে যদি পুরো ১.৫ লক্ষ টাকা জমা করে দেওয়া যায়, তবে ওই অর্থবর্ষের সম্পূর্ণ সুদের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, সময়মতো বিনিয়োগ আপনার লাভের অঙ্ক অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।

করমুক্ত উপার্জনের সেরা সুযোগ
পিপিএফ-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ‘ইইই’ (EEE) স্ট্যাটাস। এর অর্থ হলো বিনিয়োগ করা মূলধন, প্রাপ্ত সুদ এবং মেয়াদপূর্তির পর পাওয়া সম্পূর্ণ টাকা—সবই আয়কর মুক্ত। পিপিএফ-এর প্রাথমিক মেয়াদ ১৫ বছর হলেও, গ্রাহকরা চাইলে ৫ বছরের ব্লকে এই মেয়াদ যত খুশি বাড়িয়ে নিতে পারেন।

অবসরে মাসিক ৬১ হাজার টাকার পেনশন
আপনার জমানো ১.০৩ কোটি টাকার তহবিল অবসর জীবনের নিয়মিত আয়ের উৎস হতে পারে। যদি ৭.১ শতাংশ হারে সুদ বজায় থাকে, তবে বছরে প্রায় ৭.৩ লক্ষ টাকা শুধুমাত্র সুদ হিসেবেই পাওয়া যাবে। যার অর্থ হলো, প্রতি মাসে ঘরে বসেই আয় হবে প্রায় ৬১,০০০ টাকা। বাজারের ঝুঁকি না থাকায় মধ্যবিত্তের কাছে এটি একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিএফ একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত বিনিয়োগ হলেও মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রাখা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে পিপিএফ-এর পাশাপাশি ইক্যুইটি বা মিউচুয়াল ফান্ডেও বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। তবে পকেটে টান না দিয়ে ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পিপিএফ-এর চেয়ে ভালো সরকারি স্কিম খুব কমই আছে।