মারা গিয়েও ফিরে এলেন ৩ বার! মৃত্যুর ওপারে কী আছে? নাসার প্রাক্তন বিজ্ঞানীর দাবি শুনে কাঁপছে দুনিয়া!

মৃত্যু মানেই কি সবকিছুর শেষ? নাকি এটি অন্য কোনো অজানা ও রহস্যময় জগতের প্রবেশদ্বার? এই চিরন্তন বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিলেন নাসার প্রাক্তন বিজ্ঞানী ডক্টর ইনগ্রিড হনকালা। বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সেতুবন্ধন ঘটিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তিনি একবার নয়, বরং তিন-তিনবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। আর প্রতিবারই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন এক অদ্ভুত ও শান্তিময় জগতকে।
শৈশবেই প্রথমবার যমরাজকে স্পর্শ
কলম্বিয়ার বোগোটার বাসিন্দা ইনগ্রিড জানান, মাত্র দুই বছর বয়সে তিনি প্রথমবার মৃত্যুর স্বাদ পেয়েছিলেন। বাড়ির কাছের একটি বরফ-ঠান্ডা জলের ট্যাঙ্কে পড়ে ডুবে যান তিনি। সেই চরম সংকটের মুহূর্তেই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। ইনগ্রিডের কথায়, “শ্বাস নেওয়ার সংগ্রামের মাঝে হঠাৎ এক গভীর শান্তি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল আমি নিজের শরীর থেকে আলাদা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছি।” তিনি দাবি করেন, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন তাঁর মা কাজের জন্য বেরিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মানসিকভাবে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যা বুঝতে পেরে তাঁর মা দ্রুত ফিরে এসে ট্যাঙ্ক থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।
মৃত্যুর ওপারে কী দেখেছিলেন?
বর্তমানে ৫৫ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী জানান, পরলোকে সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। সেখানে তিনি নিজেকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং একটি ‘আলোর রশ্মি’ হিসেবে অনুভব করতেন। ইনগ্রিড বলেন, “সেখানে ভয় বলে কিছু নেই। আমি অনুভব করেছি মহাবিশ্বের সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এমনকি আমি কিছু অলৌকিক সত্তার সাথেও কথা বলেছি।”
বারবার ফিরে আসা
ইনগ্রিডের এই অভিজ্ঞতা কেবল শৈশবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২৫ বছর বয়সে এক ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনা এবং ৫২ বছর বয়সে অস্ত্রোপচারের সময় রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তিনি ফের মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান। প্রতিবারই তিনি একই রকম এক প্রশান্তিময় জগতের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। এই তিনবারের অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। এখন তিনি মৃত্যুকে বিন্দুমাত্র ভয় পান না।
বিজ্ঞান বনাম আধ্যাত্মিকতা
অনেকে একে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবজনিত বিভ্রম (Hallucination) বলে উড়িয়ে দিলেও, ইনগ্রিড তাঁর বৈজ্ঞানিক যুক্তি থেকে সরতে নারাজ। সামুদ্রিক বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই বিজ্ঞানী নাসা এবং মার্কিন নৌবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তাঁর আসন্ন বই ‘ডাইং টু সি দ্য লাইট’-এ তিনি লিখেছেন, “চেতনা কেবল আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে তৈরি হয় না, এটি মহাবিশ্বের একটি মৌলিক অংশ। মৃত্যু আসলে শেষ নয়, বরং চেতনার এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর মাত্র।”
বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের এই সংঘাতের মাঝে ইনগ্রিডের এই দাবি এখন নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। নেটিজেনদের বড় অংশই এখন ইনগ্রিডের এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মৃত্যুর ওপারের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।