রাজপথে তোলাবাজি শেষ! মুখ্যসচিবের কলমের এক খোঁচায় বন্ধ হচ্ছে রাজ্যের সব বেআইনি টোল গেট

নবান্নে প্রশাসনিক সংস্কারের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতি ও তোলাবাজি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। বিশেষ করে রাজ্য জুড়ে বেআইনিভাবে গজিয়ে ওঠা টোল গেট, ড্রপ গেট এবং ব্যারিকেড নিয়ে এবার বেনজির কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। মঙ্গলবার এক নির্দেশিকা জারি করে মুখ্যসচিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া চলা প্রতিটি টোল গেট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের চরম হুঁশিয়ারি
মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে (DM) নিজ নিজ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি আদায় কেন্দ্রগুলি চিহ্নিত করতে হবে। শুধুমাত্র চিহ্নিত করাই নয়, দ্রুত সেগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থাও নিতে হবে প্রশাসনকে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোনো ‘বেআইনি কর’ আদায়ের কেন্দ্র গড়ে উঠতে না পারে, তার জন্য কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্ধ হচ্ছে জোর করে টাকা আদায়
রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো অনুমোদনহীন কেন্দ্র থেকে ফি, চার্জ বা লেভি (শুল্ক) আদায় করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত বৈধ টোল সংগ্রহ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, টেন্ডারের মেয়াদ এবং কোন সংস্থা সেটি পরিচালনা করছে—সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তলব করেছে নবান্ন।
১৫ মে-র ডেডলাইন
নবান্ন সূত্রে খবর, বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের টোল গেটের তালিকা তৈরি করে আগামী ১৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে ‘আন্ডার সেক্রেটারি’র দফতরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাজ্য সড়কগুলিতে মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা সমূলে উৎপাটন করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কড়া ব্যবস্থার ইঙ্গিত
মুখ্যসচিবের জারি করা এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বা বেআইনি টোল গেট চালু থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ এবং লরি চালকরা, যাঁরা প্রতিদিন এই বেআইনি আদায়ের শিকার হতেন।
নতুন সরকার আসার পর প্রশাসনের এই সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, রাজপথে দাদাগিরি বন্ধ করাই এখন নবান্নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।