বেআইনি টোল প্লাজায় বড় ধাক্কা! রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ নবান্নর

রাজ্যের সাধারণ মানুষের পকেটে আর অন্যায্য টান পড়বে না। রাজ্যের প্রতিটি কোণায় গজিয়ে ওঠা বেআইনি টোল প্লাজা ও ড্রপ গেটগুলোর বিরুদ্ধে এবার যুদ্ধ ঘোষণা করল নতুন সরকার। বুধবার নবান্নর পক্ষ থেকে এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন কোনও ব্যারিকেড বা গেট রাখা যাবে না। অবিলম্বে এই ধরণের সব অবৈধ পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের পাঠানো এই নির্দেশিকায় প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে (ডিএম) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছিল, রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা এমনকি প্রধান সড়কের মোড়েও বেআইনিভাবে ড্রপ গেট বসিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। এই ধরণের কাজ যে সম্পূর্ণ বেআইনি, তা মনে করিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে বলা হয়েছে, যেখানেই এমন অবৈধ কারবার চলছে, তা যেন তড়িঘড়ি বন্ধ করা হয়। অনুমতি ছাড়া এই গেটগুলো যাতে ফের চালু হতে না পারে, তার জন্য কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে কেবল অবৈধ নয়, নজরে রয়েছে বৈধ টোল প্লাজাগুলোও। বৈধভাবে যে সমস্ত টোল প্লাজা চলছে, তাদের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, তাও যাচাই করে দেখতে হবে। কতদিনের টেন্ডার রয়েছে এবং কোন সংস্থা সেই টোল চালাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে আগামী ১৫ তারিখ দুপুর ১২টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের।

অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী ও নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণের দিনেই এই প্রশাসনিক তৎপরতা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পাশাপাশি মিতব্যয়িতার পথেও হাঁটছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তাকে পাথেয় করে নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে ফেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের দেখানো পথে হাঁটা শুরু করেছে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যও। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারে। দিল্লি থেকে রাজস্থান কিংবা মধ্যপ্রদেশ—সবত্রই আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের বিলাসবহুল কনভয় কাটছাঁটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই পথেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল।